নতুন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়োময় না হলে পড়তে হবে বিপাকে। এবার শুধু নিজের তথ্য দিলেই হবে না, জানাতে হতে পারে বাবা-মায়ের ভোটার তালিকার অবস্থানো। নির্বাচন কমিশনের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
নির্বাচন কমিশনের ECINET পোর্টালে অনলাইন ফর্ম-৬-এ নতুন একটি ডিক্লারেশন অংশ যোগ করা হয়েছে। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে বলা হচ্ছে, সর্বশেষ Special Intensive Revision বা SIR -এ তার বা তার বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকায় ছিল কি না। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিধানসভা কেন্দ্র, বুথ নম্বর এবং ভোটার তালিকার সিরিয়াল নম্বরও দিতে বলা হচ্ছে এই তথ্যের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নানান সমস্যা। কারণ ২৬ এর নির্বাচনের পূর্বে বহু ভোটারদের নাম এস আই আর এর তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। ফলে তাদের ছেলেমেয়েরা যদি নতুন করে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে চাই। সে-ক্ষেত্রে অনেকটাই সমস্যা তৈরি হবে।
এরই পাশাপাশি আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। যাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ECINET পোর্টালে অনলাইন ফর্ম-৬-এ নতুন যে ডিক্লারেশনের অংশ যোগ করা হয়েছে। সেই একই পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা অফলাইন ফর্ম-৬-এ এই নতুন অংশের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে অনলাইন ও অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় এই অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরও অভিযোগ, নতুন অংশটিকে বাধ্যতামূলক না বলা হলেও তা পূরণ না করলে আবেদনকারী পরবর্তী ধাপে এগোতে পারছেন না। ওই ধাপে থাকতে হচ্ছে আবেদনকারীকে।
নতুন ডিক্লারেশন অংশে আবেদনকারীকে তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হচ্ছে। যেমন - 'আমার নাম সর্বশেষ ভোটার তালিকায় রয়েছে', 'আমার মা-বাবা বা ঠাকুমা-দাদুর নাম রয়েছে', অথবা 'আমার বা আমার মা-বাবার কারও নাম নেই'। প্রথম দুটি বিকল্প বেছে নিলে অতিরিক্ত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। তবে তৃতীয় বিকল্প বেছে নিলে পরবর্তী প্রক্রিয়া কি হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। আর তাতেই বাড়ছে সমস্যা। ধোঁয়াশার মধ্যে থাকতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। ফলে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাদের সন্তানদের নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নতুন এই ফর্ম ৬ কে ঘিরে বাড়ছে নানান জল্পনা। যদিও নির্বাচন কমিশনের দুই প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, প্রয়োজনীয় সরকারি সংশোধনী ছাড়া ফর্ম-৬-এ কোনো পরিবর্তন করা যায় না। বর্তমানে এই বিতর্ককে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।