তিনি বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছিলেন। ভারতের মাদ্রাসাগুলি সম্পর্কে তাঁর কোন ধারনা নেই। এমনটাই দাবি করেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তাকে নিজের দেশ--বাংলাদেশের সরকার নির্বাসন দিয়েছিল ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য। তার বিতর্কিত উপন্যাস 'লজ্জা'য় বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বী মানুষের আবেগে আঘাত এসেছে, এই অভিযোগে নির্বাসন দেওয়া হয়। এরপর তিনি আশ্রয় নেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। তবে সেখানেও সমস্যা দেখা দেওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও তসলিমা নাসরিন কে চলে যেতে হয়। প্রায় দু'দশক পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে তসলিমার। সৌজন্যে বর্তমান শাসকদল বিজেপি। গত ১লা আগস্ট রবীন্দ্রসদনে নিজের বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন এই 'দ্বিখন্ডিত' হৃদয়ের বিতর্কিত লেখিকা।তিনি ধন্যবাদ জানান বর্তমান শাসকদলের নেতৃত্বকে। বিশেষত শমীক ভট্টাচার্য কে। যিনি তসলিমাকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন এই বাংলার মাটিতে। এই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কটির সৃষ্টি হয়। ঠিক কী বলেছিলেন তিনি?
তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন--'আসলে আমি বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্পর্কে যতটুকু জানি, আমার যেটা মনে হয়, মাদ্রাসাগুলো থাকা উচিত নয়। কারণ, অনেকসময় দেখা যায়, মাদ্রাসাগুলোয় জিহাদি তৈরি হচ্ছে। সবসময় অবশ্য নয়। এখন আপনারা যদি নিউজগুলো দেখেন, মাদ্রাসাগুলোয় শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ চলছে। ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক ধরা পড়ছে। জেলে যাচ্ছে। শুধু শাস্তি দিলে তো হয় না। এই শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। মাদ্রাসার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, মাদ্রাসা থেকে পাশ করে কেউ কিছুই করে না। মাদ্রাসাগুলো না হয়ে সব সেক্যুলার স্কুল হয়ে হওয়া উচিত। আর প্রচুর মসজিদ গড়ে উঠেছে। যেগুলোও জিহাদি তৈরির কারখানা। সবগুলো বলছি না। কিছু কিছু। কেউ যদি টাকাকড়ি করে, মসজিদ তৈরি করে। এত মসজিদ দরকার নেই। সরকারের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।'
এই কথার পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় গন্ডগোল। নেটাগরিক এবং জনগনের কিছু অংশ এই কথা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে। মূলত 'মাদ্রাসায় জিহাদি তৈরি হয়' এই শব্দবন্ধেই আপত্তি ওঠে। ওই অনুষ্ঠানের বিতর্কের সূত্র ধরে তসলিমার জবাব--'মাদ্রাসা সম্পর্কে আমি যে মন্তব্য করেছি, তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্পর্কে। ভারতের মাদ্রাসার বাস্তবতা সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই; তাই ভারতের মাদ্রাসা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্যও করিনি। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যম আমার স্পষ্ট বক্তব্যটিকে ভারতের মাদ্রাসা সম্পর্কে করা মন্তব্য হিসেবে প্রচার করছে, যা সঠিক নয়।'