নিউজ ডেস্ক: রাখির দিন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে হাসি ও আনন্দে সময় কেটেছিল ৬০ বছরের ব্যবসায়ী অর্ণব সেনের। কিন্তু সেই রাতেই ঘটে গেল ভয়ংকর পরিণতি। টাকার জন্য নিজের দূর সম্পর্কের নাতির হাতে খুন হতে হল ব্যবসায়ীকে! মালদহ শহরের এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্যভেদ করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে মালদহ শহরের দু'নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির একটি ত্রিতল বাড়ির একতলা থেকে অর্ণবের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলার কাছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র, আলমারি খোলা ও এলোমেলো অবস্থায় পড়েছিল। প্রথমে ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুনের সন্দেহ তৈরি হলেও ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকটি সূত্র তদন্তটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে অর্ণবের বাড়িতে এসেছিল দুই যুবক, শুভজিৎ ঘোষ ও কৌশিক ঘোষ ওরফে পচা। শুভজিৎ নিহতের দূর সম্পর্কের নাতি এবং কৌশিক হল তাঁর বন্ধু। গল্প করতে করতে দুজনে চা খেতে চায়। ইন্ডাকশনে চা তৈরি করে তাঁদের খাওয়ান অর্ণব। টেবিলে পাওয়া যায় চায়ের দাগ লেগে থাকা দুটি কাপ। এবং তখনও ইন্ডাকশনটি চালু ছিল।
পুলিশের দাবি, চা খাওয়ার মধ্যেই অর্ণবের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। অর্ণব তাঁদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর তিনি শোয়ার ঘরে গেলে নাতি ও তাঁর বন্ধু হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাতে আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুনের পর বাড়ি তল্লাশি চালায় দুই যুবক। তবে, টাকা বা গয়নার নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে অর্ণবের মোবাইল ফোনটিও নিখোঁজ। সেই ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করতে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে তার অবস্থান পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোনও।
পুলিশের দাবি, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে দুই যুবক। তদন্তকারীদের সামনে উঠে এসেছে অনলাইন গেমের নেশা এবং বিপুল দেনার বিষয়টি। সেই দেনা শোধ করতেই ব্যবসায়ী দাদুকে খুনের ছক কষেছিল ওই দুই যুবক। পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে। খুনের নেপথ্যে শুধুমাত্র দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল, নাকি আরও কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।