নিকটাত্মীয় না হলেও কোনও ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে চাইলে শুধুমাত্র সম্পর্কের নথি নেই বলে তাতে বাধা দেওয়া যায় না। বন্ধু বা পারিবারিক সম্পর্ক সবসময় নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত এক মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের।
বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালত ‘অথরাইজেশন কমিটি’র আগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাকারী সুনীতা খাঁড়ার স্বামী চিন্টুর দু’টি কিডনিই কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। তাঁকে বাঁচাতে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসকেরা। কিন্তু নিকটাত্মীয়দের কেউ কিডনি দিতে রাজি না হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। সেই সময় রূপা সাহা নামে এক মহিলা স্বেচ্ছায় কিডনি দানের জন্য এগিয়ে আসেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামা দিয়ে রূপা জানান, কোনও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নয়, অসুস্থ একজন মানুষের জীবন বাঁচাতেই তিনি কিডনি দান করতে চান। কিন্তু দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট নথি নেই, তাঁদের পরিচয়ের বিষয়টিও স্পষ্ট নয়—এই যুক্তিতে কিডনি দানের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে ‘অথরাইজেশন কমিটি’।
এরপর বিষয়টি গড়ায় হাই কোর্টে। আদালতের নির্দেশে রূপার ভিডিয়ো রেকর্ডিংও খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে রূপা জানান, তাঁর স্বামী ২০১৪-১৫ সাল থেকে চিন্টুর বাড়িতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরস্পরের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও স্পষ্ট করেন, ‘অথরাইজেশন কমিটি’র মূল দায়িত্ব হল কিডনি দানের ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক লেনদেন বা অঙ্গ বিক্রির ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। দানটি স্বেচ্ছায় হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করতে পারে কমিটি। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্কের পর্যাপ্ত নথি নেই বলে কোনও মানুষকে জীবনদায়ী অঙ্গ দান থেকে আটকানো যায় না।
এরপরই কমিটির আগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে রূপা সাহার কিডনি দানের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।