দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস। তাকে অবমাননা ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন সাংসদ অনন্ত মহারাজ। আর এই ঘটনার পরেই সরগরম হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। দিকে দিকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে। ঘটনা তীব্র নিন্দা জানায় রাজ্য সরকার।
এবার নেতাজি বিতর্ক কাণ্ডে আবারো মুখ খুললেন পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, 'এমন কোনো কথা বলা উচিত নয় যাতে কারুর সংবেদনশীলতায় আঘাত পড়ে। ইতিহাস নিজস্ব বিস্তৃতি ও ব্যাপ্তির মধ্যে রয়েছে। যে ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল সেই ঘটনা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় গোটা দেশের মানুষের কাছে লজ্জা জনক।' এরই পাশাপাশি অনন্ত মহারাজের ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ' যদি কোনও ব্যক্তি নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হন। নিজের কাজের জন্য ভুল স্বীকার করে নেন তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। আমাদের সমাজের হৃদয় অনেক বড় তাই কেউ যদি মন থেকে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চায় তার ভুল ক্ষমা করা যায়। আর রইল আইনি পদক্ষেপের কথা, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আছেন তাঁর প্রশাসন রয়েছে'।
নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়। একাধিক জায়গায় মামলা দায়ের করা হয় অনন্ত মহারাজ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয় অনন্ত মহারাজের অনুগামীদের। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেননি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। শুধু তাই নয় সাংসদ অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেয় শুভেন্দু সরকার।
আর এই ঘটনার পরেই নিজের ভুল স্বীকার করে নেন অনন্ত মহারাজ। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি বলেন, 'নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্য়ের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'
বৃহস্পতিবার রাতে অনন্ত মহারাজের ক্ষমা চাওয়ার পরেই শুক্রবার রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষের এই বক্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। আগামীদিনে এই ঘটনার জল কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার।