কলকাতা ,অঙ্কন দাস: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক পিটিশন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জমা দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও ওই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করেননি ওম বিড়লা। একারনেই সোমবার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।২০ জন তৃণমূলের দলত্যাগী সাংসদের বিরুদ্ধে কেন দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না? কেনই বা তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা হবে না? এই প্রশ্নগুলি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড।
একদিকে এই ২০ জন সাংসদকে কখনও দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে। কখনও তারা প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে নৈশভোজ করতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে। আবার অন্যদিকে সংসদে বক্তব্য রাখার সময় লোকসভা টিভির স্ক্রলে যাচ্ছে এআইটিসি অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস। সুতরাং এই ২০ জন সাংসদ ঠিক কোথায় আছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্পষ্ট কোথায় বলতে গেলে, এই সাংসদদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে কালীঘাট তৃণমূল! একারনেই গত সপ্তাহে এই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।
এবার সোমবার অভিষেকের ওই মামলা শীর্ষ আদালতে দায়ের হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এনসিপিআই-কে এখনও স্বীকৃতি দেননি ওম বিড়লা। অন্যদিকে ওই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে বারবার স্পিকারের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয়, ওই ২০ জন সাংসদ দাবি করেছেন, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। কিন্তু এখনও তাঁরা এনডিএ’র শরিক হতে পারেননি। বলা ভাল, তাঁদের এখনও এনডিএ’র শরিক করা হয়নি।
এই ব্যাপারে অভিষেক বলেন, ‘২০ জন সাংসদ মুখে দাবি করছেন তাঁরা এনসিপিআই। সংসদে তাঁরা যখন বক্তৃতা করছেন তখন তাঁদের নামের পাশে লেখা থাকছে এআইটিসি (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস)। এটা কখনও হতে পারে না। কিন্তু কিছুতেই এই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজ হচ্ছে না। এঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। এখন অন্য দলে গিয়েছেন। সমর্থন করছেন এনডিএ-কে। তাই ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্য নীতির ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক।' এমনটাই দাবি তোলেন অভিষেক।
'তাছাড়া কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি এবং শুনানিও হয়নি। অথচ ২০ জনের আসন বদল করা হলো। অবিলম্বে এই আসন বদলের ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।' এই দাবিও তুলেছেন অভিষেক।তবে লক্ষ্যণীয়,এসবের মধ্যে অভিষেকদের আসন বদল করা হয়। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে ওই ২০ জন সাংসদ যেভাবে অন্য দলে যুক্ত হন, সেই প্রক্রিয়াকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এনে তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানান অভিষেক। তবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। এই পরিস্থিতিতেই এবার অভিষেক লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।এই মামলার শুনানি হলে সমস্ত ধোঁয়াশা পরিষ্কার হবে।