রাস্তা পরিষ্কার রাখতে এবার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করল রাজ্য সরকার। দুর্গাপুরে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হল পুরসভার ভ্যাকিউম ক্লিনার গাড়ি। রাস্তার ধুলো, ময়লা ও ছোটখাটো আবর্জনা সাকশন পদ্ধতিতে দ্রুত পরিষ্কার করবে এই বিশেষ গাড়ি। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে বুধবার দুর্গাপুরে এই পরিষেবা চালু করা হয়।
প্রশাসনের লক্ষ্য, শহরের রাস্তাঘাট, ফুটপাথ ও বাজার এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখা। পুরমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্যই এই উদ্যোগ। আপাতত একটি গাড়ি দিয়ে কাজ শুরু হলেও এর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে শহরের আরও এলাকায় এই ধরনের গাড়ি নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।
তবে শুধু পুরসভার উদ্যোগে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয় বলেও বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, থুতু না ফেলা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি বেআইনি ভাবে পানীয় জলের মূল পাইপলাইন থেকে সংযোগ নেওয়া নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। মেন পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া বা পাম্প বসিয়ে জল টেনে নেওয়ার ঘটনা ধরা পড়লে সরাসরি এফআইআর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা।
প্রশাসনের তরফে আগেই রাস্তা নোংরা করা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরিমানার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রাস্তায় মলমূত্র ত্যাগ করলে ২০০ টাকা, রাস্তায় আবর্জনা ফেললে ২০০ টাকা এবং প্রকাশ্যে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং পুরসভা ও মিরিক এলাকায় ১ জুলাই থেকে এই জরিমানা কার্যকর হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা। প্রযুক্তিনির্ভর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়িয়েই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা দিয়েছে পুরসভা।