নিউজ ডেস্ক: এশিয়ার ক্রীড়ামঞ্চে শুরু হচ্ছে আরও এক মহারণ। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হবে ২০তম এশিয়ান গেমসের। চার বছর পর ফের এক ছাদের নীচে এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদদের মিলন। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই ক্রীড়াযজ্ঞ। এবারের এশিয়ান গেমসে ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। মোট ৪৩টি খেলায় হবে পদকের লড়াই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম। সরকারি সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা দুপুর ২:৩০টা থেকে। অনুষ্ঠানের আগে দর্শকদের জন্য গেট খোলার সময় নির্ধারিত ছিল স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০টা এবং ওয়ার্ম-আপ স্টেজ শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৪টেয়। নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের কারণে দর্শকদের আগেভাগে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে বলা হয়েছিল।
এ বারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাবনা ‘HEART BEAT Aichi-Nagoya’। আয়োজকদের পরিকল্পনা, অাইচি ও নাগোয়ার নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ ও দর্শকদের আবেগকে একসূত্রে বাঁধা। অনুষ্ঠানটির প্রধান পরিচালক ইউকিহিকো সুৎসুমি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই জাপানের সংস্কৃতি, স্থানীয় ঐতিহ্য এবং আধুনিক মঞ্চ-পরিবেশনার মেলবন্ধন তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের জন্যও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্যের। প্রথমে শুটার মনু ভাকের এবং শটপাটার তাজিন্দরপাল সিংহ তূরকে ভারতের পতাকাবাহক ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তূরের আনুষ্ঠানিক পোশাক জাপানে সময়মতো পৌঁছয়নি। ফলে ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা পতাকাবাহক পরিবর্তন করে কাবাডি খেলোয়াড় পবন সেহরাওয়াতকে দায়িত্ব দিয়েছে। মনুই ভারতের মহিলা পতাকাবাহক থাকছেন।
মনু ভাকেরের সামনে তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকা বহনের পাশাপাশি এবারের এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে দেশের অন্যতম বড় মুখ হয়ে ওঠার সুযোগ। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে দু’টি ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন মনু। স্বাধীনতার পর এক অলিম্পিকেই দু’টি পদক জেতা প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট তিনি। অন্য দিকে পবন সেহরাওয়াত ভারতীয় কাবাডি দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। তূর অবশ্য প্রতিযোগিতায় নিজের ইভেন্টে অংশ নেবেন এবং শটপাটে পরপর দু’টি এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার নজির রয়েছে তাঁর।
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে এবার ভারতের লক্ষ্যও বড়। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ১০৭টি পদক জিতেছিল ভারত, যার মধ্যে ছিল ২৮টি সোনা। সেটিই ছিল এশিয়ান গেমসে ভারতের সর্বকালের সেরা পদক-সংগ্রহ। এবার সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামছে ভারতীয় দল। ক্রিকেট, কাবাডি এবং পুরুষদের হকিতে ভারত আগের সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন। ব্যাডমিন্টনে পিভি সিন্ধু, ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু, কুস্তিতে আমন সেহরাওয়াত, বক্সিংয়ে লভলিনা বরগোঁহাই এবং শুটিংয়ে মনু ভাকেরের দিকে থাকবে নজর।
এ বারের এশিয়ান গেমসের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ। তিরন্দাজি, সেলিং, স্কোয়াশ, সার্ফিং এবং টেনিসে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের কোটা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে শুধু এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াই নয়, আগামী অলিম্পিকের টিকিটের দিক থেকেও কয়েকটি ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাগোয়া শহরজুড়ে এশিয়ান গেমসকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনও রয়েছে। ‘ওয়ান এশিয়া ওয়ার্ল্ড’ নামে ফ্যান জোন তৈরি করা হয়েছে হিসায়া-ওদোরি পার্ক এলাকায়।
সেখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, খাবার এবং ক্রীড়াবিদদের নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনের বিশেষ অতিথিদের তালিকায় জাপানি পপ গ্রুপ INI-ও রয়েছে। ভারতে এশিয়ান গেমসের সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে। টেলিভিশনে Sony Sports 1 এবং Sony Sports 5-এ দেখা যাবে প্রতিযোগিতা। আঞ্চলিক ভাষার সম্প্রচারের জন্য রয়েছে Sony Sports 3-এ হিন্দি এবং Sony Sports 4-এ তামিল, তেলুগু ও কন্নড়। অনলাইনে SonyLIV অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে।
উদ্বোধনের পর থেকেই শুরু হবে পদকের লড়াই। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর—এই ১৬ দিনে এশিয়ার ক্রীড়াক্ষেত্রের নজর থাকবে অাইচি-নাগোয়ার দিকে। ভারতের সামনে এবার শুধু পদক বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নয়, ২০২৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পরীক্ষাও।