ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝ-আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এআই২৩৭৯ উড়ানে আচমকা এয়ার টার্বুল্যান্সের সৃষ্টি হলে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি সামলে নিরাপদেই বিমানটিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাইলট।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি। উড়ানের শুরুতে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু কিছুটা পথ যাওয়ার পর আচমকাই বিমানে প্রবল ঝাঁকুনি শুরু হয়। আচমকা অবস্থান পরিবর্তনের জেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানটি দ্রুত প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।
বিমান পরিষেবায় এই ধরনের পরিস্থিতিকে ‘এয়ার টার্বুল্যান্স’ বলা হয়। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা বা অন্য কোনও বায়ুমণ্ডলীয় কারণে বিমানে এ ধরনের তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হতে পারে। সাধারণত টার্বুল্যান্সের সম্ভাবনা থাকলে পাইলট যাত্রীদের সতর্ক করে সিটবেল্ট বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন। তবে এই উড়ানে ঘটনার আগে কোনও টার্বুল্যান্স সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার জেরে যাত্রী ও বিমানকর্মী মিলিয়ে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন বিমানকর্মীর আঘাত গুরুতর বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কয়েক জন যাত্রীও সামান্য চোট পেয়েছেন।
দিল্লিতে অবতরণের আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়। যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য বিমানবন্দরে আগে থেকেই মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে দিল্লিতে পৌঁছয়। অবতরণের পর আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে ঘটনাটি এয়ার টার্বুল্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব রকম সহযোগিতা করা হবে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থা।
ঘটনার পর বিমানযাত্রায় টার্বুল্যান্সের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের সতর্ক করার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি আচমকা এতটা নীচে নেমে গেল এবং আহতদের আঘাতের প্রকৃতি কতটা গুরুতর, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।