কয়েকদিন আগে শুরু হয়েছে পবিত্র অমরনাথ যাত্রা। কিন্তু বাবা বরফানিকে দেখার আশায় পাহাড়ে পাড়ি দেওয়া লাখ লাখ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্বেগের খবর এল যাত্রার প্রথম সপ্তাহেই। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অমরনাথ গুহার ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত পবিত্র বরফের শিবলিঙ্গটি যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ গলে গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের জলবায়ু পরিবর্তন এবং হিমালয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চলতি বছর অমরনাথ যাত্রা শুরু হয় ৩ জুলাই। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ৭ জুলাইয়ের মধ্যেই বরফের শিবলিঙ্গের অধিকাংশ অংশ গলে যাওয়ার খবর সামনে আসে। অথচ মে মাসে এই প্রাকৃতিক বরফের শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল প্রায় সাত ফুট। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তার আকারে এত বড় পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক কারণের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা, কম তুষারপাত, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণ আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর উপস্থিতির ফলে গুহার অভ্যন্তরের স্থানীয় পরিবেশেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পরিবেশবিদদের একাংশ। তবে নির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুহার বাইরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রয়েছে। হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধি বরফ জমা ও গলার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। কম তুষারপাত এবং দীর্ঘ সময় উষ্ণ আবহাওয়া থাকলে প্রাকৃতিক বরফের গঠন দ্রুত সঙ্কুচিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এদিকে অমরনাথ গুহার ছাদ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় জমে ধীরে ধীরে বরফের স্তম্ভ তৈরি হয়। এই প্রাকৃতিক বরফের গঠনকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ‘বাবা বরফানি’ হিসেবে পূজা করেন। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটি একটি প্রাকৃতিক বরফের স্ট্যালাগমাইট।
তবে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরেও অমরনাথ যাত্রা শেষ হওয়ার আগেই বরফের শিবলিঙ্গ প্রায় সম্পূর্ণ গলে যাওয়ার নজির রয়েছে। সেই কারণেই পরিবেশবিদদের একাংশ যাত্রার সময়সীমা, প্রতিদিনের পুণ্যার্থীর সংখ্যা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মানবিক চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশগত সংকট ডেকে আনতে পারে।
তবে বরফের শিবলিঙ্গের আকার ছোট হয়ে গেলেও পুণ্যার্থীদের ভক্তিতে কোনও ভাটা পড়েনি। প্রতিদিনই হাজার হাজার ভক্ত অমরনাথ গুহায় পৌঁছে দর্শন ও পূজা দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা মোট ৫৭ দিন চলার কথা। যাত্রার প্রথম দিনেই ১২ হাজারের বেশি পুণ্যার্থী পবিত্র গুহায় পৌঁছে বাবা বরফানির দর্শন করেছেন।