হাওড়া: রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারের ছেলের বান্ধবীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অনীশ নামে এক যুবক। তাঁর দাবি, তিনি রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার নীলম মিনার ছেলে। যদিও ওই যুবক আদৌ নির্বাচন কমিশনারের ছেলে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনীশের অভিযোগ, পড়াশোনার সূত্রে তাঁর বান্ধবীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। একইভাবে তাঁর বান্ধবীও তাঁদের বাড়িতে পড়াশোনার জন্য আসতেন। কিন্তু তাঁদের এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর আইএএস মায়ের। যুবকের দাবি, বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় তাঁর মা হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে বিষয়টি জানান।
এর পরেই নাকি মন্ত্রীর দলের লোকজন তাঁর বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে হুমকি দেন। অনীশের অভিযোগ, তাঁদের বলা হয় যাতে তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ না রাখা হয়। এই ঘটনারই বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগের কথা জানতে পেরে পালটা সরব হন মন্ত্রী উমেশ রাই। তিনি গোটা অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন এবং অনীশের বিরুদ্ধে হাওড়া পুলিশ কমিশনার ও হাওড়া সিটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এক বন্ধুর কাছ থেকে তিনি প্রথম ওই ভিডিওর কথা জানতে পারেন। ভিডিওটি দেখে তিনি বিস্মিত হন বলেও দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারকে তিনি এখনও ঠিকমতো চেনেন না। ফলে নির্বাচন কমিশনারের পরিবারের কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই ওঠে না।
উমেশ রাই আরও দাবি করেছেন, ওই যুবক আদৌ রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারের ছেলে কিনা, তা নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেন তিনি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনলেন, তার পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী।
অন্যদিকে, নিজের বক্তব্যে অনীশ নিজেকে নির্বাচন কমিশনার নীলম মিনার ছেলে বলেই পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর তোলা অভিযোগের সত্যতা অবশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে পুলিশ বা প্রশাসনের তদন্তে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে, অনীশের পরিচয় সত্যিই কী, তাঁর অভিযোগের পিছনে থাকা ঘটনার বাস্তবতা কতটা, এবং হুমকির অভিযোগের সঙ্গে মন্ত্রী বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের কোনও যোগ রয়েছে কি না। অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের মধ্যে এখন তদন্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
