কলকাতা, পিউ নন্দী: ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ ও সর্বাধিক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র অগ্ন্যুৎপাত। ইতালির সিসিলি দ্বীপের এই পর্বতটির একাধিক জ্বালামুখ দিয়ে বিরতিহীনভাবে গলিত লাভা, গ্যাস ও আগ্নেয় ছাই নির্গত হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ও গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে সৃষ্ট এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো এলাকা ঘন ছাইয়ের চাদরে ঢেকে গেছে। এই অগ্নুৎপাত দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরাও,স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও তুলতে ব্যস্ত তারা।আগ্নেয়গিরির এত কাছে যাওয়ায় ঝুঁকি থাকলেও পাহাড়ের গা দিয়ে ফুটন্ত লাভা গড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর সুন্দর এই দৃশ্য দেখতে ভীর করছেন তারা।
১৩ আগস্ট ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, এটনার জ্বালামুখ থেকে আগুনের ফোয়ারার মতো লাভা ছিটকে উঠছে এবং উজ্জ্বল লাল গলিত লাভার স্রোত পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসছে। কাতানিয়া থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরের এই আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘ সিসিলি পেরিয়ে ইউরোপের নানা অংশ এমনকি উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
আকাশে বিপুল পরিমাণ ছাই ছড়িয়ে পড়ায় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিমানের ইঞ্জিন বিকল হওয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় গত এক সপ্তাহে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বহু বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। মাউন্ট এটনার এই অবিরাম লাভা উদগিরণ ও বিস্ফোরণ অঞ্চলটিতে নতুন করে ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ এটনা পরিদর্শনে আসেন। আগেরবারের অগ্নুৎপাতের লাভার তুলনায় অনেক বেশি নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে এবারের লাভা। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ জিও ফিজিক্স এন্ড ভলক্যানলজির তথ্য অনুযায়ী, ১১ ই আগস্ট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মুখ থেকে লাভা বের হচ্ছিল এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা লাভার স্রোত নেমে এসেছে ১৩৬০ মিটার পর্যন্ত।
গলিত লাভার এই স্রোত পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে নদীর মত, তার সঙ্গে রয়েছে তীব্র ধোয়া ও উত্তাপ। এই ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্য দেখতে মাউনট এটনায় ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়েই অনেকে তুলছেন ছবি আবার অনেকে করছেন ভিডিও। বর্তমানে এলাকায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা, কারণ মাউন্ট এটনা অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং এই দৃশ্য যতটা আকর্ষণীয় ততটা বিপদজনকও।