গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়ে সোনা জিতেছেন। কিন্তু সেই সাফল্যের কয়েক দিনের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতীয় জুডোকা অস্মিতা দে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ক্রীড়াবিদদের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের তালিকায় তাঁর নাম থাকবে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এর কারণ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও অস্মিতা আদতে ত্রিপুরার বাসিন্দা।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের ২০২৪ সালের অগাস্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের তরফে আর্থিক পুরস্কার পেতে হলে খেলোয়াড়কে উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এ ছাড়া স্বীকৃত কোনও উত্তরপ্রদেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত দু'বছর পড়াশোনা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। অস্মিতার ক্ষেত্রে এই শর্তগুলি কতটা প্রযোজ্য, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে রাজ্যের ক্রীড়া দফতর। যদিও গত ২০২৩ সাল থেকে তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত।
সবুজ সংকেত মিললে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে দেড় কোটি টাকা পুরস্কার পেতে পারেন অস্মিতা। রাজ্যের ক্রীড়া অধিকর্তা আর পি সিং জানিয়েছেন, কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ও অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ এখনও চলছে। সেই তালিকা প্রকাশের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
অবশ্য এতে বিন্দুমাত্র ম্লান হচ্ছে না ২৩ বছরের অস্মিতার কীর্তি। গ্লাসগোতে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচের বিরুদ্ধে শুরুতে একটি ইউকো খুইয়ে এবং একটি পেনাল্টি পেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে স্কোর ১-১ করেন।
নির্ধারিত সময়ে ফল না মেলায় ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। সেখানেই চাপের মুখে অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়ে নির্ণায়ক আক্রমণে আরও একটি ইউকো আদায় করেন অস্মিতা। তাতেই নিশ্চিত হয় সোনা। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে জুডোয় ভারতের প্রথম সোনা এনে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন ত্রিপুরার এই জুডোকা।