বৃষ্টি যেন থামার নামই নিচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বর্ষণে জলমগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষত জেলার উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। রাতভর বৃষ্টির পর এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে। কোথাও হাঁটু সমান জল আবার কোথাও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ জলের তলায়। হলদিয়া থেকে নন্দীগ্রাম,ময়না থেকে পটাশপুর একাধিক এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সূত্রে খবর, বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জল ঢুকে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে জেলার একাধিক স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে বহু জায়গায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ জনজীবন কার্যত থমকে গিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সাহায্যের জন্য হলদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যান্য জায়গায় পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। হলদিয়ার জন্য ৭৯০৮৫২১২০০ এবং জেলার অন্যান্য অংশের জন্য ০৩২২৮-২৬২৭২৮ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ২৭টি ত্রানশিবির তৈরি করা হয়েছে। জরুরী পরিস্থিতিতে উদ্ধার এবং ত্রাণ কাজ চালানোর জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী(NDRF) এর সদস্যরাও এলাকায় পৌঁছেছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কেলেঘাই নদীকে ঘিরে। লাগাতার বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভগবানপুর ও পটাশপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে নদীবাঁধ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বাঁধের ওপর চাপ বাড়ছে বলে আশঙ্কা। জলের চাপের ফলে একাধিক বাঁশ ও কাঠের সাঁকো ইতিমধ্যেই ভেসে গিয়েছে। রবিবার ময়না থেকে ভগবানপুরের মধ্যে যোগাযোগকারী বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সূত্রের খবর, হলদিয়া ছাড়াও নন্দীগ্রাম, চন্ডিপুর, ময়না, ভগবানপুর এবং পটাশপুরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, আবার কোথাও রাস্তা যেন নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে, প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।জানা গিয়েছে,পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আজ এলাকায় আসছেন বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। প্রশাসনের দাবি, যেকোন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত। তবে, বৃষ্টি না কমলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে আশঙ্কা।