JAZZBAAT 24 BANGLA
১১ অক্টো ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
Breaking
Narendra Modi: এশিয়ান গেমসে ৮৫ পদক, সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণের আগে ক্যাবিন ব্যাগ গোছাচ্ছেন? এই ৩ গ্যাজেট রাখতে একদম ভুলবেন না Red Sea Boat Capsize: লোহিত সাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবি! ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ১১৬ KMC News: পুরনিগমের পোস্টারে বাংলা-হিন্দির মিশেল,সরানো হল পোস্টার বৈষ্ণব মতে দুর্গাপুজো অথচ দশমীর রাতে মেটে চচ্চড়ি! ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়ির দুর্গা... ‘বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে’, পুজোর আগে শিলিগুড়িতে শুরু পোস্টার বিতর্ক নিয়ান্ডারথালরা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা উন্নত ছিল? কাঠের কাজের দক্ষতা নিয়ে উঠে এলো নতুন তথ্য Headline: দার্জিলিং-এ দুর্গাপুজোয় ‘জামারা’র মাহাত্ম্য, সবুজ চারায় বেঁচে পাহাড়ের প্রাচীন... Narendra Modi: এশিয়ান গেমসে ৮৫ পদক, সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণের আগে ক্যাবিন ব্যাগ গোছাচ্ছেন? এই ৩ গ্যাজেট রাখতে একদম ভুলবেন না Red Sea Boat Capsize: লোহিত সাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবি! ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ ১১৬ KMC News: পুরনিগমের পোস্টারে বাংলা-হিন্দির মিশেল,সরানো হল পোস্টার বৈষ্ণব মতে দুর্গাপুজো অথচ দশমীর রাতে মেটে চচ্চড়ি! ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়ির দুর্গা... ‘বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে’, পুজোর আগে শিলিগুড়িতে শুরু পোস্টার বিতর্ক নিয়ান্ডারথালরা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা উন্নত ছিল? কাঠের কাজের দক্ষতা নিয়ে উঠে এলো নতুন তথ্য Headline: দার্জিলিং-এ দুর্গাপুজোয় ‘জামারা’র মাহাত্ম্য, সবুজ চারায় বেঁচে পাহাড়ের প্রাচীন...

DurgaPuja: অসুরহীন প্রতিমা, শিবের কোলে দ্বিভুজা উমা! বড়শুলের দে বাড়িতে আড়াইশো বছরের হরগৌরী আরাধনা

DurgaPuja: অসুরহীন প্রতিমা, শিবের কোলে দ্বিভুজা উমা! বড়শুলের দে বাড়িতে আড়াইশো বছরের হরগৌরী আরাধনা
দুর্গা প্রতিমা ছবি: এ আই ও গ্রাফিক্স দ্বারা নির্মিত

নিউজ ডেস্ক: শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ আর শিউলির গন্ধ জানান দিচ্ছে উমার আগমন বার্তা। জেলায় জেলায় বারোয়ারি পুজোর থিম ও মণ্ডপ তৈরির তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, তখন সাবেক বনেদিয়ানার ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলের প্রাচীন ‘দে’ পরিবার। এই বাড়ির পুজো মানেই ঐতিহ্যের এক বিরল মেলবন্ধন, যেখানে দেবী দুর্গা দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী নন, পূজিত হন শিবের বাম উরুতে আসীন দ্বিভুজা ‘হরগৌরী’ রূপে।

প্রায় আড়াইশো বছর ধরে চলে আসা এই পুজোয় দেবীর রূপের বৈশিষ্ট্য নজরকাড়া। এখানে কোনও অসুর নেই, নেই সিংহবাহিনী রূপও। দুর্গা, লক্ষ্মী কিংবা সরস্বতী কারও কোনও বাহন থাকে না এই প্রতিমায়। তবে দেবাদিদেব মহাদেব, কার্তিক এবং গণেশের বাহন যথারীতি উপস্থিত থাকে। শিবের পাশে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে তাঁর বাহন বৃষভ। রণংদেহী রূপের বদলে দে বাড়ির ঠাকুরদালানে ধরা দেয় পরম শান্ত ও পারিবারিক এক আবহ।

ইতিহাসের পাতা উল্টোলে জানা যায়, বড়শুলের জমিদার যাদবচন্দ্র দে-র আমলে প্রথমে ঘটে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে জমিদার গৌরপ্রসাদ দে-র সময়ে মৃন্ময়ী মূর্তি পুজোর প্রচলন হয়। কথিত আছে, দামোদর নদ ও জিটি রোড সংলগ্ন হওয়ায় তৎকালীন সময়ে গঙ্গাসাগরগামী বহু সাধুসন্ত এই জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নিতেন। তেমনই এক সাধুদল পরিবারে ধনসম্পদ ও শ্রীবৃদ্ধির কামনায় হরগৌরী রূপের আরাধনার পরামর্শ দেন। আরও একটি রোমাঞ্চকর লোকশ্রুতি রয়েছে সাধুরা একবার ঝোলা থেকে মা দুর্গার বিভিন্ন রূপের মাটির পুতুল বের করে দে পরিবারের এক শিশুকন্যার চোখ বেঁধে দেন। সেই কন্যা হাত বাড়িয়ে হরগৌরীর পুতুলটি তুলে নেয়। সেই থেকেই এই অভিনব রূপের প্রতিষ্ঠা।

বৈষ্ণব ভাবাপন্ন এই পরিবারে গুরুদেবের নির্দেশে শাক্ত মতে এবং ‘গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা’ মেনে পুজো সম্পন্ন হয়। নিয়ম অনুযায়ী সপ্তমীতে ছাঁচিকুমড়ো এবং অষ্টমীতে ছাগবলি দেওয়া হয়। নবমীতে তিনটি ছাঁচিকুমড়ো, চারটি শসা, বাতাবি লেবু ও মূলসহ তিনটি আখ বলিদানের প্রথা রয়েছে। তবে বৈষ্ণব রীতির কারণে পরিবারের কেউ বলির প্রসাদ স্পর্শ করেন না। এককালে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সন্ধিপুজোর কামান দাগার আওয়াজ শুনে এখানে বলিদান শুরু হতো। তবে কামান দাগা বহু দশক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ঘড়ির সময় মেনেই সেই নিয়ম রক্ষা করা হয়।

এককালে দামোদর দিয়ে নৌবাণিজ্যে লবণ ও তাম্বুলের রমরমা ব্যবসা ছিল দে পরিবারের। ঠাকুরদালানের প্রবেশপথে শোভা পেত প্রায় এক কুইন্টাল ওজনের সুবিশাল এক ঘণ্টা। রেড়ির তেলের ঝাড়বাতির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠত গোটা মহল, আর নবমীর রাতে বসত ঐতিহ্যবাহী ‘বাঘ নাচ’-এর আসর। সময়ের প্রবাহে সেই ভারী ঘণ্টা, রেড়ির তেলের ঝাড়বাতি বা বাঘ নাচের জৌলুস অতীত হলেও ঐতিহ্যের ধারায় ছেদ পড়েনি এতটুকুও। বিজয়া দশমীতে আজও প্রাচীন প্রথা মেনে দেবীকে কাঁধে তুলে গোটা গ্রাম ঘুরিয়ে তবেই বিসর্জন দেওয়া হয়। আভিজাত্যের চাকচিক্য ফিকে হলেও পরিবারের আন্তরিকতা ও ভক্তিভাবকে সম্বল করে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল বড়শুলের এই হরগৌরী পুজো।

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
52 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

বৈষ্ণব মতে দুর্গাপুজো অথচ দশমীর রাতে মেটে চচ্চড়ি! ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজা
উমাকথা

বৈষ্ণব মতে দুর্গাপুজো অথচ দশমীর রাতে মেটে চচ্চড়ি! ভবানীপুরের বিখ্যাত মল্লিক বাড়ি...

কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর লিস্টে রয়েছে ভবানীপুরের মল্লিকবাড়ির পুজোর আলাদা পরিচিতি। রঞ্জিত মল্লিক এবং কোয়েল মল্লিকের পরিবারের এই পুজো রয়েছে বছরের পুরনো ইতিহাস, আচার ও রীতিনীতি।

১১ অক্টো ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম · 2 মিনিট
Durga Puja: মহিষাসুরমর্দিনী থেকে বাড়ির মেয়ে ‘উমা’ হয়ে ওঠার গল্প
উমাকথা

Durga Puja: মহিষাসুরমর্দিনী থেকে বাড়ির মেয়ে ‘উমা’ হয়ে ওঠার গল্প

একক মহিষাসুরমর্দিনী থেকে সপরিবারে দুর্গা, আর সেখান থেকে বাঙালির ঘরের মেয়ে উমা—দেবী আরাধনার বিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি। আগমনী-বিজয়ার গান থেকে শিল্পীদের তুলিতে কীভাবে দেবী হয়ে উঠলেন ঘরের মেয়ে, রইল সেই কাহিনি।

১০ অক্টো ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম · 3 মিনিট
DurgaPuja: কাঁটাতারের ওপারে দেশভাগের স্মৃতি, এপারে ২২৬ বছরের দুর্গাপুজো! সপ্তমীতে আজও শূন্যে ছোড়া হয় ৫ রাউন্ড গুলি
উমাকথা

DurgaPuja: কাঁটাতারের ওপারে দেশভাগের স্মৃতি, এপারে ২২৬ বছরের দুর্গাপুজো! সপ্তমীতে...

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় ডালের ব্যবসা করতে এসেছিলেন অবোধ নারায়ণ রায়। সিঙ্গাবাদ স্টেশনে ট্রেনে করে ডাল এনে নৌকাযোগে তা পাঠানো হতো রাজশাহী, ঢাকা কিংবা কলকাতার খিদিরপুর বন্দরে। পরবর্তীতে ব্যবসার সুবিধার্থে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি এই এলাকার জমিদারি কিনে নেন। এলাকায় সুখ-সমৃদ্ধি ফেরাতে তিন সাধুর নির্দেশে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো।

১০ অক্টো ২০২৬, ০২:১০ পিএম · 2 মিনিট
Durga Puja 2026: জঙ্গলমহলের দুর্গা পুজোর সাথে কেন সম্পর্ক নেই নীলকন্ঠ পাখির?
উমাকথা

Durga Puja 2026: জঙ্গলমহলের দুর্গা পুজোর সাথে কেন সম্পর্ক নেই নীলকন্ঠ পাখির?

বাংলার বহু প্রান্তে বিজয়া দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি থাকলেও জঙ্গলমহলে দুর্গাপুজোর সঙ্গে এই পাখির যোগ নেই। বরং স্থানীয় লোকবিশ্বাস, সমৃদ্ধির প্রতীক এবং কৃষকের বন্ধু হিসেবেই নীলকণ্ঠকে ঘিরে রয়েছে জঙ্গলমহলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

০৯ অক্টো ২০২৬, ১০:৫০ এএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.