নিউজ ডেস্ক: ফের চোখ রাঙাচ্ছে বঙ্গোপসাগর। পশ্চিম-মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে। ফলে দেখা দিয়েছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ নিম্নচাপটি পুরীর প্রায় ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, গোপালপুর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপটনম থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১২ ঘণ্টায় সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে এসে আরও শক্তিশালী হতে পারে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের মধ্যে, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের কাছাকাছি সেটির অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা অবশ্য এখনই নিশ্চিত নয়। তবে এর গতিপথ এবং শক্তিবৃদ্ধির দিকে ইতিমধ্যেই নজর রয়েছে আবহাওয়াবিদদের। হাওয়া অফিসের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগের ঝোড়ো হাওয়া থাকলে সেটি ‘ডিপ্রেশন’ বা নিম্নচাপজনিত অবস্থা। ৫২ থেকে ৬১ কিলোমিটার হলে ‘ডিপ ডিপ্রেশন'। আর ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে ‘সাইক্লোনিক স্টর্ম’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন কোনও মানে নেই। পরিস্থিতি নির্ভর করছে আগামী কয়েক ঘণ্টায় সেটা কতটা শক্তি সঞ্চয় করে তার উপর।
তবে দুর্যোগের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ওড়িশা প্রশাসন। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে খুরদা, গঞ্জাম, জগৎসিংহপুর এবং গজপতি জেলায়। খুরদায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। একই সময়ে গঞ্জামেও সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জগৎসিংহপুরে মঙ্গলবার সমস্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। গজপতিতেও মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। প্রশাসনের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। নিচু এলাকাগুলি চলে যেতে পারে জলের তলায়।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওড়িশার বিস্তৃর্ণ এলাকায় আগামী দু’দিনে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তর ভারত মহাসাগরে পরবর্তী যে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে, তার নাম হবে ‘অর্ণব’। বাংলাদেশের দেওয়া এই নামের অর্থ ‘সমুদ্র’। তাই নিম্নচাপটি যদি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেয়, সেক্ষেত্রে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। এখন নজর একটাই। কতটা শক্তি সঞ্চয় করে শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় বঙ্গোপসাগরের এই বিভীষিকা।