নিউজ ডেস্ক: বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুরের কোতোয়ালিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সামশের বিশ্বাস (৩২)। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে চা খেতে এসেছিলেন তিনি। তখনই একদল দুষ্কৃতী তাঁর উপরে হামলা করে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর থানার পুলিশ। বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেদিনীপুরের কোতোয়ালি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ভাগ্নে জাফরকে নিয়ে হাতিহলকার কদমতলা বাজারে চা খেতে গিয়েছিলেন সামশের। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কয়েক জন কর্মীও। চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলেন তাঁরা। আচমকাই লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। প্রথমেই সামশেরকে ঘিরে ফেলে তারা। তার পরে চায়ের দোকান থেকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসে। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে বেধড়ক মারধর। তাঁকে এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সামশের। ওই অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম সামশেরকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই সামশেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনায় গুরুতর জখম হন আরও এক বিজেপি কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে এলাকায় ছিলেন সামশের। চায়ের দোকানের কাছে বসে থাকার সময়ই কয়েকজন যুবক সেখানে আসে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। কী কারণে ওই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পিছনে পুরনো কোনও বিবাদ ছিল কি না, নাকি রাজনৈতিক কারণেই হামলা চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। সেখানে হামলার মুহূর্তের বেশ কিছু দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তের কাজে ব্যবহার করছে পুলিশ। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সামশেরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিজেপির তরফে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করা হতে পারে বলে জানা গেলেও, পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামশেরের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল এবং এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিশ।
