আলিপুরদুয়ার, নিউজ ডেস্ক : হঠাৎ করে যেন বদলে যাচ্ছে বক্সার চেনা ছবি। (Buxa Tiger Reserve) পর্যটকদের কোলাহল থেকে কয়েক দিন দূরে রাখা হবে জঙ্গলকে। বন্ধ থাকবে পরিচিত জঙ্গল সাফারির রাস্তা, থমকে যাবে পর্যটকদের ডে ভিজিটও। এমনকি, জঙ্গলের ভিতরে রাত কাটানোর সুযোগও মিলবে না পর্যটকদের। বন দফতরের (Forest Department) এই সিদ্ধান্তের পিছনে কি রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কৌতুহল। তবে, হঠাৎ জঙ্গলের এই নীরবতার নেপথ্যে রয়েছে এক বিশেষ প্রস্তুতি।
আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) বক্সা টাইগার রিজার্ভে (Buxa Tiger Reserve) ফের বাঘের গর্জন শোনানোর প্রস্তুতি করেছে বন দফতর। নতুন করে বাঘ আনার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই জোর কদমে প্রস্তুতি চলছে। বন দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২ অক্টোবর বক্সা জঙ্গলে নতুন বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বিশেষ কর্মসূচিকে সামনে রেখেই জঙ্গলের ভিতরে একাধিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন বাঘকে জঙ্গলে ছাড়ার আগেই নিরাপত্তা ও পরিবেশগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। ওই কারণেই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চারদিন বক্সা জঙ্গলের (Boxer Forest )সমস্ত পর্যটন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই চারদিন জঙ্গলে কোনও ধরনের সাফারি করা যাবে না। পাশাপাশি ডে ভিজিটও বন্ধ থাকবে।
শুধু তাই নয় বনাঞ্চলের ভিতরে পর্যটকদের রাত্রিবাসের পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। বক্সা টাইগার রিজার্ভ ( Buxa Tiger Reserve) দীর্ঘদিন ধরেই বন্যপ্রাণীপ্রিয় ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। একসময় এই জঙ্গলে বাঘের (Tiger) উপস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দেখা বা গর্জন শোনার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে, নতুন করে বাঘ আনার উদ্যোগকে ঘিরে বনপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরী হয়েছে।
বনদফতর (Forest department) সূত্রে খবর,নতুন বাঘকে জঙ্গলে ছাড়ার আগে নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সেই কাজ যাতে নির্বিঘ্নে করা যায় তারজন্য পর্যটকদের প্রবেশে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ জারি করা হচ্ছে। বাঘ ছাড়ার আগে এবং পরবর্তী সময়ে জঙ্গলের পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তবে, বাঘকে (Tiger) জঙ্গলে ছাড়ার পর তার গতিবিধি, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত সময়ের আগে জঙ্গল বন্ধ রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে নিতে চাইছে বন দফতর। ২ অক্টোবর সেই বিশেষ মুহূর্তের পর ফের জঙ্গলে শোনা যেতে পারে বহু আশার সেই গর্জন। আপাতত সেই অপেক্ষায় বনদফতর (Forest department) থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণপ্রেমীরা।
