ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় উত্তরপ্রদেশের চানদৌলি থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকা পর্যন্ত প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আরও এগোতে চলেছে। এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হওয়ার কথা। রাস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে হাওড়া জেলায়। প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির সঙ্গে দেখা করলেন আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত।
বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, জমি অধিগ্রহণ এবং আগামী দিনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর অমিত সামন্ত জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এতদিন পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস মিলেছে।
প্রস্তাবিত এই গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকবে। রাজ্যে রাস্তাটি পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়া জেলার উপর দিয়ে যাওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত সেটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকার সঙ্গে যুক্ত হবে।
হাওড়া জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য আমতা-২ এবং বাগনান-১ ব্লকের একাধিক এলাকা দিয়ে রাস্তা যাওয়ার কথা। প্রায় ২৬টি মৌজার উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে চন্দ্রপুরের কাছে মুম্বই রোডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পে রূপনারায়ণ ও দামোদর নদীর উপর একাধিক পাকা সেতু তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। তবে হাওড়া থেকে জোকার দিকে রাস্তার চূড়ান্ত সংযোগপথ নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে রাস্তা জোকার দিকে যাবে, নাকি শ্যামপুর হয়ে হুগলি নদীর উপর সেতু তৈরি করে সরাসরি জোকার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
অমিত সামন্ত জানান, গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি তাঁর বিধানসভা এলাকার আরও কয়েকটি প্রস্তাবিত রাস্তা ও পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একাধিক জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।