ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুকে এবার কড়া হাতে দমন করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আগামী দিনে তদন্তের সুবিধার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের নথি সংরক্ষণ করবে রাজ্য পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র যাচাই করতে গিয়ে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় একাধিক ভুয়ো শংসাপত্রের হদিশ মিলেছে। সেই ঘটনার পরই প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে। এবার তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যাতে সহজে নথি যাচাই করা যায়, সেই লক্ষ্যেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত দফতরের নথি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের মূল লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, অতীতে যেসব ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে, সেগুলির সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। দ্বিতীয়ত, যাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের নামে জন্ম কিংবা মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তা কারা ইস্যু করেছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাজ্যজুড়ে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মূলত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বৈধতা যাচাই করতেই বিভিন্ন পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব জানান, ১৯৯৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আইন সংশোধন করে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজনৈতিক স্তরে চলে যায়।
মুখ্যসচিব আরও বলেন, জন্ম শংসাপত্র আধার, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তৈরির মূল ভিত্তি। তাই এই নথির স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে বেসরকারি বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এভাবে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ব্যবস্থা নেই, ফলে এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজন রয়েছে।




