পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে গিয়েছিলেন কাজে। কিন্তু সেখান থেকে আর ফেরা হলো না বাড়ি। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের। মৃত শ্রমিকের নাম শেখ শহিদুল। বাড়ি দুর্গাপুরের আরতি গ্রামে। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মীরা।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতের শিফটে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত ছিলেন শেখ শহিদুল। কাজ চলাকালীন আচমকাই একটি রড ভেঙে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে গরম স্ল্যাগে ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যান শহিদুল। গভীর রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে সহকর্মীরা ছুটে এসে দেখেন, আগুনে ঝলসে কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে রয়েছে তার দেহ। সেই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন সকলেই।
এই ঘটনার পরে একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নয় গোটা কারখানা চত্বর। গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে, উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। এরই পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার দাবি তোলা হয়।
এ বিষয়ে কারখানার আরো এক শ্রমিক জানান, শহিদুল এর সঙ্গে তিনি একসাথেই কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণের জন্য তিনি বাইরে যান। যখন ফিরে আসেন দেখতে পান গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে রয়েছে শহিদুল। ঠিক কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো তা তিনিও জানেন না। তবে তার অনুমান, কোনো রড ভেঙে যাওয়ার কারণেই শহিদুল নিচে পড়ে গিয়েছে। তাতেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলিতে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।