মালদা, নিউজ ডেস্ক: কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলে ছিল আগেই। কিন্তু সেই স্বস্তি এখনও পুরোপুরি মিলছে না, চলতি মাসের পরিসংখ্যানেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য সামনে আসতেই ফের প্রশ্ন উঠেছে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর হার নিয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পদক্ষেপের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
সূত্রের খবর, ফের শিশুমৃত্যু নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। চলতি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জন শিশুর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও কোনও দিনে একসঙ্গে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে সর্বাধিক ৫ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে। এর পেছনে অপুষ্টিকেই অন্যতম দায়ী করছে মালদা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, নাবালিকা অবস্থায় গর্ভবতী হয়ে পড়ার ঘটনাও শিশুর অপুষ্টি এবং পরবর্তী জটিলতার অন্যতম কারণ বলে দাবি করা হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অপুষ্ট শিশু জন্ম হচ্ছে এবং জন্মের পর তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে।
উল্লেখ্য, অগাস্ট মাসে মালদা মেডিকেলে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই মাছের ২৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ৮৯ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। অবশেষে, গত ২৯ অগাস্ট শিশুমৃত্যুর তদন্তে মালদা মেডিকেলে আসে স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিনিধি দল। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর মালদা মেডিকেলের সুপার সহ শিশু বিভাগের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্যভবন। মেডিকেল সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয় মালদা মেডিকেলেরই ইএনটি বিভাগের প্রধান গণেশচন্দ্র গাইনকে। একইসঙ্গে, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে হাসপাতালকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়।
তারপরে স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপ এবং একাধিক পদক্ষেপের পর গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছিল। তবে, চলতি মাসেও মাত্র ২৮ দিনে ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু ফের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে । মালদা মেডিকেল কলেজের সুপার গণেশচন্দ্র গাইন জানান, চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ৩৫ জন শিশু অপুষ্ট ছিল। তাঁর দাবি, নাবালিকা অবস্থাতেই গর্ভবতী হয়ে পড়ার কারণের অপুষ্ট শিশুর জন্ম হওয়ার ঘটনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামনে আসে। ফলে, শিশু মৃত্যুর হার কমাতে চিকিৎসার পাশাপাশি অপুষ্টি এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের মতো বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মালদা মেডিকেল কলেজে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকটাই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
