নয়াদিল্লি: সাত মাসের অপেক্ষার অবসান। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ফের বিমান চলাচলের জন্য খুলে যাচ্ছে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় রানওয়ে। প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ থাকা 11R/29L রানওয়ের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজ শেষ। প্রয়োজনীয় পরিদর্শন, যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও মিলেছে। ফলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরে ফের বাড়তে চলেছে রানওয়ের কার্যকর সক্ষমতা।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শুরু হয়েছিল এই রানওয়ের ব্যাপক পুনর্বাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্প। প্রায় ৭ মাস ধরে চলা কাজে শুধু উপরিভাগ মেরামত নয়, রানওয়ের কাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ডিআইএএল-এর দাবি, নিরাপত্তা, বিমান ওঠানামার দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা এবং ভবিষ্যতের বাড়তে থাকা বিমান চলাচলের চাপ সামলানোর কথা মাথায় রেখেই এই কাজ করা হয়েছে।
সংস্কারের অন্যতম বড় কাজ হয়েছে রানওয়ের resurfacing। পাশাপাশি শক্তিশালী করা হয়েছে রানওয়ের pavement। 29L প্রান্তের threshold স্থায়ী ভাবে সরানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন Rapid Exit Taxiway (RET Z1)। এর ফলে অবতরণের পরে বিমান দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে taxiway-তে যেতে পারবে। অর্থাৎ একটি বিমান রানওয়েতে যত কম সময় আটকে থাকবে, পরবর্তী বিমানের ওঠানামার জন্য তত দ্রুত জায়গা তৈরি হবে।
শুধু রানওয়ের পিচ বা pavement নয়, বদলেছে বিমানবন্দরের airfield ground lighting ব্যবস্থাও। সংশ্লিষ্ট civil এবং electrical infrastructure-এও উন্নয়ন করা হয়েছে। ডিআইএএল-এর বক্তব্য, এই পরিবর্তনগুলির ফলে বিমান চলাচলের দক্ষতা বাড়বে, রানওয়েতে বিমানের অবস্থানের সময় কমবে এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় অপারেশনাল নির্ভরযোগ্যতা আরও মজবুত হবে।
এই কাজের সময় দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে DGCA, Airports Authority of India, Air Traffic Control, বিভিন্ন বিমান সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই ২০ সেপ্টেম্বর থেকে রানওয়েটি ফের চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে তৃতীয় রানওয়ের গুরুত্ব যথেষ্ট। বিমানবন্দরটি বর্তমানে চারটি রানওয়ে ব্যবহার করে দিনে 1,300-র বেশি বিমান চলাচল পরিচালনা করে। বছরে প্রায় 106 million যাত্রী সামলানোর ক্ষমতাও রয়েছে বিমানবন্দরের। ফলে একটি রানওয়ে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে বাকি পরিকাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তৃতীয় রানওয়ে ফের পরিষেবায় আসায় সেই চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অপারেশনাল সুবিধা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রানওয়ে 11R/29L প্রথম চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। সংস্কারের আগে টানা প্রায় ১৭ বছর এটি পরিষেবায় ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে, ২০১৭ সালেও হয়েছিল ছোট পরিসরের পুনর্বাসনের কাজ। কিন্তু এ বারের প্রকল্প ছিল অনেক বেশি বিস্তৃত—রানওয়ের surface থেকে pavement, lighting থেকে taxiway, একাধিক পরিকাঠামোয় একসঙ্গে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ডিআইএএল-এর সিইও প্রদীপ পানিকর জানিয়েছেন, তৃতীয় রানওয়ের পুনরায় চালু হওয়া দিল্লি বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিকাঠামো তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাঁর বক্তব্য, নতুন Rapid Exit Taxiway, উন্নত navigation ও lighting ব্যবস্থার সঙ্গে আপগ্রেড করা রানওয়ে বিমানবন্দরের capacity এবং resilience আরও শক্তিশালী করবে।
অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুধু একটি বন্ধ রানওয়ে খুলছে না। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পর দিল্লির ব্যস্ত আকাশপথে ফিরছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল পরিকাঠামো। বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে রানওয়ের উপর চাপ সামলানো এবং বিমান চলাচলকে আরও দক্ষ ভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে এই তৃতীয় রানওয়ের প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।