অঙ্কন দাস: অপমানটা বুকে এসে বিঁধেছিল সুরেশ চৌধুরী'র। শৈলেশকে খেলতে দিল না! তিনি জোড়াবাগান ক্লাবের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলেন শৈলেশ বসু'কে না খেলানোর কারন। কেউই সঠিকভাবে কিছু বলতে চায় না। কানাঘুষো শুনলেন শৈলেশ 'বাঙাল' তাই জোড়াবাগান বনাম মোহনবাগান ম্যাচে জোড়াবাগান তাঁকে খেলায়নি। সুরেশবাবুর বুকেও ব্যথা লাগল। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে জোড়াবাগান তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। পরেরদিন মন্মথ নাথ চৌধুরী,রমেশ চন্দ্র সেন,অরবিন্দ ঘোষকে নিয়ে শলা-পরামর্শ করে নতুন দল খোলার ইচ্ছা জানালেন। সবাই সম্মতি জানালেন। এর দু'দিনের মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করল 'ইস্টবেঙ্গল ক্লাব'। সময়টা ১৯২০-র ১লা আগস্ট।
জার্সি খুঁজতে গিয়ে জ্যোতিষ চন্দ্র গুহ-র নজরে এল লাল-হলুদ রঙের জার্সি। তিনি ইস্টবেঙ্গলের তৎকালীন সভাপতি।সেই সভাপতির মনে 'রং' ধরল! ব্যস,ওই রংটাই রয়ে গেল বরাবরের মত। ডিজাইন হয়তো বদলেছে বারবার;কিন্ত,রংটা পাকাপাকি থেকে গেল সব উদ্বাস্তু,সংগ্রামী 'বাঙাল'দের মনে।
বাঙাল - যাদের হেয় করে বনেদি, ঘটি, মোহনবাগান সমর্থকরা। জীবন যাদের প্রতিক্ষণে লাথিয়ে দিচ্ছে,কড়া নজরে মেপে নিচ্ছে তাদের মাঝদরিয়ার 'খড়কুটো' এই ক্লাব।
'জিততেই হবে!মানসম্মানের লড়াই।' খেলার আগে খেলোয়াড়দের তাতিয়ে দিলেন 'ভোম্বলদা'। আসল নাম 'সুভাষ ভৌমিক'। তার হাতে তুরুপের তাস 'কালোমানিক' সুলে মুসা, 'পাহাড়ি বিছে' বাইচুং ভুটিয়া',আলভিটো ডি কুনহা আর তেকাঠির নীচে 'অদম্য প্রহরী' সন্দীপ নন্দী। তারপর একটা 'আগুন' লড়াই আর 'বেক-তেরো-সাসানা'কে মাটিতে পুঁতে পুড়িয়ে দিল এগারোটা জ্বলন্ত মশাল। সেই প্রথম কোন অ-আশিয়ান দেশের দল জিতে নিল এই সম্মান। সালটা ২০০৩।
তারপর? তারপর ছুটছে লাল আর হলুদ ঘোড়ার রথ! ফেডারেশন কাপ,আইএসএল,ডুরান্ড কী নেই সেই রথে? প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। জী-প জুটির পর অনেকে এসেছেন গেছেন। যারা আছেন তাদের অলিখিত দায়িত্ব মশালটা জ্বালিয়ে রাখা দিনভর,জীবনভর!
গানটা ছড়িয়ে যায় গ্যালারি থেকে কাঁটাতারের সীমানায়-
'লেসলি ক্লডিয়াস স্ট্রিট/রোদ ঝড় বা হোক শীত
লাল হলুদ আগুন করবে আহ্বান
লেসলি ক্লডিয়াস স্ট্রিট/ ছিনিয়ে নেবে জিত
আমাদেরই গর্জন শুনবে ময়দান'।