কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান মানেই বাঙালির চিরন্তন আবেগ। দুই দলের সমর্থকদের কাছেই নিজ নিজ ক্লাব মাতৃসমা। তাই ডার্বি সব সময়ই টানটান উত্তেজনার হবে, এমনটাই থাকে প্রত্যাশা। সেই ডার্বি যদি হয় ফাইনাল তা হলে তো কথাই নেই। কিন্তু রবিবাসরীয় যুবভারতী তার ধারেকাছেও গেল না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে পুরোদস্তুর নাস্তানাবুদ করেই ২২ বছর পর ১৭ তম ডুরান্ড কাপ জিতে নিল ইস্টবেঙ্গল। আর এই অপ্রতিরোধ্য জয়েই একটি নয়— তিন-তিনটি ইতিহাস যেন ফিরে এল একসঙ্গে।
প্রথমার্ধেই এডমুন্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিকে ৪-১ এগিয়ে যায় লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। এর পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আর বাড়েওনি, আবার কমেওনি। ফলে খুব কাছাকাছি গিয়েও অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল ভাঙতে পারল না ফাইনালের মঞ্চে সবথেকে বড় ব্যবধানে মোহনবাগানকে হারানোর রেকর্ড। ১৯৭৫ সালের আইএফএ শিল্ড ফাইনালে যে রেকর্ড গড়েছিল পিকে ব্যানার্জির প্রশিক্ষণাধীন ইস্টবেঙ্গল।
সেই ম্যাচে শ্যাম থাপার জোড়া গোলের পাশাপাশি সুরজিৎ সেনগুপ্ত, রঞ্জিত মুখার্জি এবং শুভঙ্কর সান্যালের গোলে মোহনবাগানকে ৫-০ হারিয়েছিল লাল-হলুদ বাহিনী। এটাই ফাইনাল তো বটেই, এমনকি কলকাতা ডার্বির ইতিহাসেই সবথেকে বড় জয়। যা ভেঙে দেওয়ার সুযোগ এসেছিল এ দিন। তবে সেই রেকর্ড না ভাঙতে পারলেও ডুরান্ড কাপ ফাইনালের ইতিহাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে ইস্টবেঙ্গল। এতদিন ১৯৭৮-৭৯ মরশুমের ফাইনালে ৩-০ জয়ই ছিল ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তাদের সবথেকে বড় জয়।
এর পাশাপাশি ডুরান্ড কাপ জয়ের ক্ষেত্রেও নয়া ইতিহাস গড়ল লাল-হলুদ। তাঁরা ছুঁয়ে ফেলল মোহনবাগানের সবথেকে বেশি ১৭টি ডুরান্ড জয়ের রেকর্ড। এর আগে গত ২০২৩ সালের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই ১৭ তম ডুরান্ড কাপ জিতেছিল মেরিনাররা। ৩ বছর পর বদলা মিটিয়ে তাদের সেই রেকর্ডই ছুঁয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। যা দেখে মনে হতেই পারে যে, মোহনবাগানকে হারনোর যে ট্র্যাডিশন, যুগের পর যুগ ধরে সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। আসলে এ দিনের যুবভারতী যেন প্রমাণ করে দিল, ইতিহাস এভাবেই ফিরে ফিরে আসে। হয়ত তাকে ছুঁয়ে দেখা যায়। কিংবা যায় না। কিন্তু সে ফিরে আসে বার বারই।