কোচবিহার: ভোররাত থেকেই কোচবিহারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারি পাচারের অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার ভোরে কোচবিহারের ভানুকুমারী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়াই মোড় এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী বিনয় বর্মনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বাড়িতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ বিনয় বর্মনের বাসভবনে ED-এর তল্লাশি শুরু হয়। তাঁর দুই ভাই সঞ্জয় বর্মন ও মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়ি এবং বাবা সর্বেশ্বর বর্মনের বাড়িতেও একই সময়ে তদন্তকারীরা পৌঁছন। ফলে একই পরিবারের একাধিক ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই অভিযানে অসম এবং কলকাতা থেকে আসা ED-এর যৌথ তদন্তকারী দলের সদস্যরা রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রায় পাঁচজন তদন্তকারী এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তল্লাশির সময় নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা বাড়ির বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজপত্র, আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে। তল্লাশির মাধ্যমে তদন্তকারীরা কোনও আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সূত্র খুঁজছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সূত্রের দাবি, মায়ানমার থেকে বিভিন্ন পথে উত্তর-পূর্ব ভারতে সুপারি নিয়ে আসা এবং পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তা পাঠানোর একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সঙ্গে এই পরিবারের যোগসূত্র রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এদিনের অভিযান কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ED-এর তরফে অভিযানটির নির্দিষ্ট মামলা বা আইনি ভিত্তি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে তল্লাশিতে কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, তদন্তকারীরা কোনও নির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন কি না, কিংবা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করা হয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কোচবিহারে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের আন্তঃরাজ্য ও সীমান্তপারের বাণিজ্যিক গতিবিধি নিয়ে প্রশাসনের নজর রয়েছে। এর মধ্যে সুপারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের একাধিক বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একযোগে অভিযান হওয়ায় স্থানীয় স্তরে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন ED-এর তল্লাশি শেষ হওয়ার পর তদন্তকারীরা কী তথ্য সামনে আনেন, সেটিই দেখার। অভিযানের পর কোনও নথি, সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন বা পাচার-চক্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা নিয়েই নজর রয়েছে।
