কেয়া মণ্ডল: পুজো হোক বা বিয়ে, যে কোনও অনুষ্ঠানে রসগোল্লা না থাকলে যেন খাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রসগোল্লা নামটা শুনলেই বাঙালির মনে পড়ে যায় নরম,তুলতুলে ছানার মিষ্টি আর তার মধ্যে রস টইটম্বুর। কিন্তু জানেন কি এই জনপ্রিয় মিষ্টিকে ইংরেজিতে ঠিক কী বলা হয়?
আসলে রসগোল্লার কোনও নির্দিষ্ট এক শব্দের ইংরেজি নাম নেই। সাধারণভাবে একে ‘Syrup-soaked cottage cheese ball’ বলা যায়। অর্থাৎ চিনির রসে ভেজানো ছানার গোলা। ‘Indian milk dumpling’ বা ‘Spongy sweet dessert ball’-এর মতো বর্ণনাও ব্যবহার করা হয়। তবে ভারতীয় মিষ্টির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে ইংরেজিতেও ‘Rasgulla’ নামটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
ছানা ও সুজি দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। প্রথমে ছানা ভালো করে মেখে মসৃণ মণ্ড তৈরি করা হয়। সেই মণ্ড থেকে ছোট ছোট গোল্লা তৈরি করে ফুটন্ত হালকা চিনির রসে সেদ্ধ করা হয়। রান্নার সময় ছানার গোল্লাগুলি চিনির রস শুষে ফুলে ওঠে এবং তৈরি হয় নরম,স্পঞ্জের মতো রসগোল্লা। স্বাদ বাড়াতে চিনির রসে এলাচ বা গোলাপজলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রসগোল্লার উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। বাংলা ও ওড়িশা—দুই জায়গার সঙ্গেই এই মিষ্টির ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িত। তবে স্বাদের পাশাপাশি রসগোল্লা খাওয়ার সময় স্বাস্থ্য নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন। এটি তেলে ভাজা হয় না বলে জিলিপি বা গুলাব জামুনের মতো ভাজা মিষ্টির তুলনায় এতে ফ্যাট তুলনামূলক কম হতে পারে। ছানার কারণে কিছুটা প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসও পাওয়া যায়।
কিন্তু রসগোল্লার মূল সমস্যা হল চিনির পরিমাণ। চিনির রসে ডুবে থাকার কারণে অতিরিক্ত রসগোল্লা খেলে শরীরে দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই একসঙ্গে অনেকগুলি না খেয়ে ছোট আকারের রসগোল্লা বেছে নেওয়া বা অতিরিক্ত রস ঝরিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ,রসগোল্লা শুধু বাঙালির আবেগের মিষ্টি নয়, এর রয়েছে দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাসও।