কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: কলকাতার বালিগঞ্জে ভুয়ো কল সেন্টারের সন্ধান পেল কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। বিদেশি গ্রাহকদের টেলিকম সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং মোবাইল ফোন। বাজেয়াপ্ত ডিভাইসগুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের আরও কর্মকাণ্ডের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জের একটি জায়গায় একটি কল সেন্টার চালানোর বিষয়ে তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং স্থানীয় স্তরে খোঁজখবর। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রথমে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত এগোতেই তালতলা এলাকা থেকে আরও একজনকে পাকড়াও করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, খুব বড় পরিকাঠামো নয়, ছোট একটি দলকে সামনে রেখেই চলছিল এই কারবার। দলের সদস্যদের বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলার প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছিল মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের গ্রাহকদের নিশানা করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা নিজেদের টেলিকম পরিষেবা সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। কখনও ডেটা পরিষেবা, কখনও সিম বা পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা, আবার কখনও কাস্টমার কেয়ারের অজুহাতে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। এরপর কথার জালে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক কার্ডের তথ্য, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিবরণ এবং পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা চলত।
পুলিশের দাবি,বিদেশিদের ফোন করে হাতিয়ে নেওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে পাউন্ড এবং ডলারে বিপুল অঙ্কের প্রতারণা করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। এই তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, চক্রটির মূল মাথা বিহারে রয়েছে। সম্ভাব্য গ্রাহকদের তথ্য বা ‘কলিং ডেটা’ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হত। তার মধ্যে ডার্ক ওয়েবও রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই তথ্য থেকেই বেছে নেওয়া হত প্রতারণার শিকারদের।
ধৃত চারজন হলেন ফিরদৌস ইকবাল (৩৬), শেখ সাজ্জাদ (৩৬), রূপম টিমোথি বিশ্বাস (২৩) এবং শাব্বির আলম (৪৭)। তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাজেয়াপ্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলির ডেটা খতিয়ে দেখে আরও দেশি-বিদেশি ভুক্তভোগীর সন্ধান এবং চক্রের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রতারণার টাকা কোথায় সরানো হয়েছে, সেই আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়। বেআইনি অর্থের সন্ধান মিললে তা ফ্রিজ করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আয়কর দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে তথ্য জানানো হবে। ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সাইবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।