বাংলাদেশে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে একটি ট্রান্সজেন্ডার নারীর বিয়ে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। যদিও বাংলাদেশে বর্তমানে সমকামী বা সমলিঙ্গের বিবাহ আইনিভাবে স্বীকৃত নয়। কিছু কিছু কাগজে গুরুত্বহীনভাবে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। এই খবরের নায়ক তাসনুভা আনান শিশির বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ পাঠিকা ও অধিকারকর্মী।
ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী তাসনুভা আনান শিশির (জন্মনাম: কামাল হোসেন) ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক বিষমকামী (হেটেরোসেক্সুয়াল) হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করেছেন, এমনটা তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। বাংলাদেশ দন্ড বিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে সমকামিতা নিষিদ্ধ। এই আইন অনুযায়ী প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যেকোনো যৌন সম্পর্ক অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং এর সাথে অর্থদণ্ড হতে পারে।
তবে এই আইনের তোয়াক্কা না করে গত ২৫ জুলাই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হয়ে গেলো সমলিঙ্গের বিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ছবিতে দেখা যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুইজন পুরুষ বিয়ে করেন তাদের মাঝে একজন সেজেছেন কনে। কনে সাজে থাকা ওই পুরুষের নাম কামাল হোসেন। জানা যায়, তিনি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শামসুল হক ও জামিরুন বেগমের ছেলে। ২০২১ সালের ৮ মার্চ কামাল হোসেনকে তাসনুভা আনান নামে নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে উপস্থাপন করেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখী টিভি। এর পর থেকে তিনি নিজেকে ট্রান্সউইমেন পরিচয় দিয়ে থাকেন।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকর থাকা অবস্থায় কীভাবে প্রকাশ্যে এমন একটি বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন। এছাড়া অনেকে বলছেন, হিন্দু ধর্মের প্রচলিত রীতিনীতিতে সমলিঙ্গের বিবাহের স্বীকৃতি নেই। সে প্রেক্ষাপটে তারা জানতে চেয়েছেন, কীভাবে মন্দিরে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো এবং কারা তা পরিচালনা করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ও মন্দিরের পুরোহিত শ্রেণি ও তাদের পন্ডিত শ্রেণি কি সমকামীতার সমর্থক?
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এমন আয়োজন ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশে সমকামী বিবাহকে সমর্থন করে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখী টিভিতে সঞ্চালনা করে বাংলাদেশের প্রথম সমকামী সংবাদপাঠক হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন শিশির। বাংলাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
তবে সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী সনাতন রীতিতে সম্পন্ন হওয়া তাঁর এই বিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এক নতুন ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করল। তাসনুভা আনান শিশির জন্মগতভাবে শারীরিক গঠনে পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেকে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে রূপান্তর করেন। তিনি ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের প্রথম প্রকাশ্য ট্রান্সজেন্ডার সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করেন।
সবাইকে চমকে দিয়ে হিন্দু রীতি অনুযায়ী মাথাভর্তি সিঁদুর ও শাঁখা পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন পুরুষকে বিয়ে করেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু রীতি অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পূর্ণ হয়। সংবাদ প্রতিদিন অনেক চেষ্টা করেও খবরের সত্যটা বের করতে পারেনি। তবে চেষ্টা রয়েছে পাওয়া গেলে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে। তবে বলা হচ্ছে-এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে হিসেবে আলোচিত।