মোবাইলে হঠাৎ বেজে ওঠে সাইরেন। কিন্তু সাইরেন বাজিয়েও রোখা গেল না দুর্ঘটনা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা জেলা জুড়ে। একইদিনে বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু হল চারজনের। যাদের মধ্যে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষ। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলের একাধিক জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। এইদিন দুপুর গড়াতে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টির তান্ডব। তবে এই ঝড় বৃষ্টির মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি তিন মহিলা। ডেবরা এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল দু-জনের। অন্যদিকে নারায়ণগড়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। একইভাবে খড়গপুর লোকাল থানায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় ওপর এক এক মহিলার। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার সাক্ষী থাকল খড়গপুর, ডেবরা ও নারায়ণগড়। মাঠে চাষের কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন দুই মহিলা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রেলস্টেশন সংলগ্ন রায়পুকুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মত কয়েকজন মহিলা মাঠে চাষের কাজ করছিলেন। বিকেলের দিকে আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি এবং বজ্রপাত। পরিস্থিতি বুঝে সকলে দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলেও, বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় দুজনের, আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মৃত মহিলারা হলেন, মালতী পাত্র (৪৬), কাজল নায়েক (৬২)। দুজনের বাড়ি রাধামোহনপুরে।
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়নগড়ের বহুরূপা এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় তাপস সাবরার (৫০)। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে মকরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। একইভাবে চাষের কাজ করার সময় খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত বরগাই এলাকায় সুমিত্রা খামরাই (৫২) এর মৃত্যু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিকেল নাগাদ জেলার সবার মোবাইলে সাইরেন বাজে বিপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা জানান হয়। যদিও এর মাঝে এই বিপত্তি। একসঙ্গে তিন মহিলা ও এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়ায় নেমে এসেছে পরিবারে।