সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য আজ, ১ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে পিঙ্ক কার্ড। রাজ্য সরকারের ঘোষিত এই পরিষেবার আওতায় মহিলারা সরকারি এসি এবং নন-এসি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। এতদিন পিঙ্ক কার্ড চালু না হওয়ায় আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখিয়েই মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছিলেন। এবার থেকে সেই জায়গায় পিঙ্ক কার্ড ব্যবহার করতে হবে।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পিঙ্ক কার্ড তৈরির জন্য অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে পিঙ্ক কার্ডের আবেদন সংক্রান্ত লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। এরপর নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে আপলোড করার পর আবেদনটি সাবমিট করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পরে একটি রিসিট পাওয়া যাবে। সেটি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পিঙ্ক কার্ডের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট, স্ট্যাম্প সাইজের ছবি এবং মোবাইল নম্বর। ভোটার কার্ডের ক্ষেত্রে সংশোধিত ভোটার তালিকায় আবেদনকারীর নাম থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।
যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁরা অফলাইনের মাধ্যমেও পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের পুরসভায় গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি-সহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করবে। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর হাতে পিঙ্ক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের সরকারি পরিবহণ ব্যবহারে আরও সুবিধা দেওয়া এবং তাঁদের যাতায়াতের খরচ কমানো। বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলা, ছাত্রী এবং নিয়মিত সরকারি বাসে যাতায়াত করেন এমন মহিলাদের জন্য এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পিঙ্ক কার্ড তৈরির আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।