স্পোর্টস ডেস্ক: গত ইংল্যান্ড সফরে ম্যানচেস্টারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বৈভব সূর্যবংশীর। বৈভবকে সুযোগ দেওয়ার সেই সিদ্ধান্ত যে তাঁর রাতের ঘুমই কেড়ে নিয়েছিল, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তা নিজেই জানালেন ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত হেরে যাওয়ার পরই সঞ্জু স্যামসনকে সরিয়ে দলে আনা হয়েছিল ১৫ বছরের বৈভবকে।
অথচ চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন সঞ্জু। ফলে এমন একজন ক্রিকেটারকে বসিয়ে বালক বৈভবকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কোচিং জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য, "বৈভব তখন এমন ছন্দে ছিলেন যে সিরিজ জিততে দলের টপ অর্ডারে তাঁকে খেলানোর প্রয়োজন মনে হয়েছিল।"
গুরু গম্ভীর জানিয়েছেন, সঞ্জুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দু’বছরের যাত্রায় ওটাই ছিল একমাত্র রাত, যে রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি।” তবে সঞ্জু বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে দাবি গম্ভীরের। তাঁর যুক্তি ছিল, ভারতের হয়ে খেললে প্রতিটি সিরিজ জেতার লক্ষ্য থাকে। সেই কারণেই বৈভবের ফর্ম এবং দলের প্রয়োজন—দুই দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ সিরিজে সঞ্জুই প্রথম একাদশে ফিরে আসেন। পরপর দু’টি অর্ধশতরানও করেন তিনি। সেই সিরিজে বৈভবের জায়গা হয়নি।
ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় বালককে নিয়ে গম্ভীরের বার্তাও স্পষ্ট। ভালো ফর্মে থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে প্রথম একাদশে জায়গা মিলবে, এমন নয়। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা দলের হয়ে ভালো খেলেছেন, তাঁদেরও প্রাপ্য সুযোগ এবং সেটা ধারাবাহিকভাবেই। সোশ্যাল মিডিয়া বা বাইরের চাপ দেখে দল নির্বাচন হয় না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কোচ এবং অধিনায়ক মিলে যে একাদশকে ম্যাচ জেতানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন, সেই দলই মাঠে নামে। সেই কারণেই কয়েকটি ম্যাচ খারাপ গেলেই গত দেড়-দু’বছরে তৈরি হওয়া দলের সমন্বয় ভেঙে দিতে চান না গম্ভীর।
এশিয়ান গেমসে টিম ইন্ডিয়ার অভিযান শুরুর আগে টি- অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বের ধরণ নিয়েও প্রশংসা করেছেন হেড কোচ। তাঁর মতে, অধিনায়ক হিসেবে দলের স্বার্থে নিজের ব্যাটিং পজিশন পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা শ্রেয়সের রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল নিয়েও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।
গম্ভীরের বক্তব্য, কয়েকটি ম্যাচ বা একটি খারাপ সিরিজ দিয়ে কোনও ক্রিকেটার বা দলকে বিচার করা ঠিক নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেতাব জেতা খুবই বিরল ঘটনা। তাঁর কথায়, পরের বিশ্বকাপ জিততে ভারতের ১৭ বছর লাগেনি। তৃতীয় বিশ্বকাপ এসেছে মাত্র ১৭ মাসের ব্যবধানে। তাই দলের প্রতি আস্থা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁর বার্তা।
