কলকাতা: ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক চোটের ধাক্কা। সেই আবহেই এ বার সরাসরি বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সকে দায়ী করার প্রবণতার বিরোধিতা করলেন সুনীল মনোহর গাভাসকর। লিটল মাস্টারের মতে, ক্রিকেটারদের চোটের জন্য সেন্টারের ফিজিওদের কাঠগড়ায় তোলা ঠিক নয়। বরং নজর দেওয়া উচিত ক্রিকেটারদের কোচিং পদ্ধতি এবং ম্যাচের জন্য তাঁদের কতটা প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেই দিকে। নিজের কলামে গাভাসকর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘জিম ফিট’ হওয়ার চেয়ে ‘ম্যাচ ফিট’ হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলে চোটের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে। জশপ্রীত বুমরাহ, সাই সুদর্শন, নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো ক্রিকেটাররা চোটের কারণে মাঠের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের ভূমিকা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে গাভাসকরের যুক্তি, চোটগুলি তো সেন্টারে নয়, মাঠে খেলতে গিয়েই হচ্ছে। তাই পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা ফিজিওদের দায়ী না করে চোট প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বারবার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার প্রবণতা তাঁকে ভাবাচ্ছে। বুমরাহর হাঁটুর চোটের পাশাপাশি একই ধরনের হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় একাধিক ক্রিকেটার আক্রান্ত হওয়াকে তিনি নিছক কাকতালীয় বলে মনে করছেন না। গাভাসকরের মতে, কোথাও না কোথাও গলদ রয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাতেই। তাঁর প্রশ্ন, ক্রিকেটারদের শরীর যদি ম্যাচের চাপ নেওয়ার জন্য তৈরি না হয়, তা হলে শুধু জিমে কঠোর পরিশ্রম করলেই বা লাভ কী?
এখানেই উঠে এসেছে বোলারদের অনুশীলনের প্রসঙ্গও। আধুনিক বায়োমেকানিক্সের যুক্তিতে নেটে বোলারদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বল করার পর থামিয়ে দেওয়া হয়। গাভাসকরের প্রশ্ন, ম্যাচে যেখানে একজন বোলারকে অনেক বেশি বল করতে হয়, সেখানে অনুশীলনে তাঁর কাজের পরিমাণ এতটা সীমিত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত? তাঁর মতে, ম্যাচের চাপ সামলানোর মতো প্রস্তুতিও অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে হেড কোচ গৌতম গম্ভীর আর সহযোগীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন লিটল মাস্টার।
গাভাসকরের বক্তব্য তাই বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সকে দায়মুক্ত করার চেয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে। চোট পাওয়ার পরে চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের পাশাপাশি কেন বারবার একই ধরনের চোট হচ্ছে, সেই কারণ খুঁজে বের করাই এখন আসল কাজ। মাঠের বদলে শুধু জিমের প্রস্তুতিতে জোর দিলে চলবে না। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সত্যিকারের ‘ম্যাচ ফিট’ করে তোলাই যে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ, সেটাই কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।