বাংগুই, স্নিগ্ধা চৌধুরী: আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের পশ্চিমাঞ্চলে সোনার খনিতে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কাজ চলাকালীন আচমকাই খনির একটি অংশ ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে নানা মামবেরে অঞ্চলের আব্বা এলাকায়। সেখানে অত্যন্ত সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প পরিসরে সোনা উত্তোলনের কাজ চলছিল। অভিযোগ, অবৈজ্ঞানিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে খনন করার কারণেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কাজ করার সময় আচমকা মাটি ধসে পড়ে তাঁদের অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও কাজে হাত লাগান। দীর্ঘ চেষ্টার পর খনি থেকে অন্তত ৩০টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক খনির ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে ফেরা এক শ্রমিক, ফ্লোরিয়ান গাগুয়েন্ড, জানিয়েছেন, খনিটিতে খুব সাধারণ প্রযুক্তির সাহায্যে খনন করা হত। কাজের সময় আচমকা ধস নামায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেলেও বেশ কয়েকজন মাটির নিচে চাপা পড়েন।
ওই এলাকার ডেপুটি মেয়র সুলেমান বি জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। স্থানীয় মানুষও তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন তিনি। আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য আরও সাহায্যের আবেদনও করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। সেখানে ধসের পর মাটি ও কাদার মধ্যে থেকে শ্রমিকদের দেহ উদ্ধারের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে ছোট আকারের খনিতে অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে খনন নতুন ঘটনা নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। এবারও সেই ঝুঁকিরই ভয়াবহ পরিণতি দেখা গেল। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং খনির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।