পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহের মধ্যেই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী হল ইয়েমেন। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের সেনাঘাঁটিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। ইয়েমেন সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের দাবি, দেশের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে একাধিক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পর হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি, হামলায় বিপুল সংখ্যক সরকারি সেনা হতাহত হয়েছেন।
বহু বছর ধরেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। এক দিকে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার, অন্য দিকে রয়েছে ইরানের সমর্থন পাওয়া হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানা-সহ উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের জেরে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা প্রকাশ্যে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে। এরপর পশ্চিম এশিয়ায় হুথিদের কার্যকলাপ দমনে মার্কিন সেনাবাহিনীও সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে একাধিক হামলা ও পাল্টা অভিযানের পরও হুথিদের শক্তি পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই জোটে গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লা এবং ইরাকের কয়েকটি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীও রয়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত এখন শুধু অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর ইয়েমেনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নতুন করে সংঘর্ষ বাড়লে শুধু ইয়েমেন নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়াতেই অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে।