স্পোর্টস ডেস্ক: আগের খেলাতেই যে টিম ইন্ডিয়া আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ৬ ওভারে তুলেছিল ১০০, মঙ্গলবার ৫ ওভারের ম্যাচে তারাই আটকে গেল মাত্র ৩২ রানে। গোটা ইনিংসে মাত্র দুটি বাউন্ডারি। তবু এর পরেও ২ রানে রুদ্ধশ্বাস জয়। সব মিলিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় ভারত-জাপানের সর্বপ্রথম দ্বৈরথ আক্ষরিক অর্থেই হয়ে রইল ঐতিহাসিক, আবার একই সঙ্গে পরতে পরতে রোমহর্ষকও বটে।
বৃষ্টির চোখরাঙানিতে মঙ্গলবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০ ওভারের ম্যাচ নেমে এসেছিল ৫ ওভারে। তাতেই যেন দ্বিগুণ বেড়ে যায় খেলার রোমাঞ্চ। লাগাতার বৃষ্টির জেরে সারারাত ঢেকে রাখতে হয়েছিল সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সারফেস। ফলে তা এতটাই স্পিন-বান্ধব হয়ে যায় যে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ভারতের ব্যাটাররা কোনও দিশাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ দিন দুই ইনিংসের ১০ ওভারই বল করেছেন স্পিনাররা।
একে তো উইকেটে শার্প টার্ন, তার ওপর বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড এতটাই মন্থর ছিল যে বল সীমানা অবধি পৌঁছতেই চাইছিল না। এই অবস্থায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট খুইয়ে ৫ ওভারে মাত্র ৩২ রানেই আটকে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন টিম ইন্ডিয়া। জাপানের স্পিনারদের সামনে শুরু থেকেই সমস্যায় পড়েছিল ভারতীয় ব্যাটাররা। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন অভিষেক শর্মা। ৪ বল খেলে কোনও রান করতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে ৯ রানে ফিরে যান সঞ্জু স্যামসনও। ঈশান কিষাণ করেন ৩ রান। ফলে ১৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভয়ানক চাপে পড়ে যায় মেন ইন ব্লু। অদম্য লড়াইয়ে সেখান থেকে দলকে মোটামুটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন অধিনায়ক শ্রেয়স এবং তিলক ভার্মা। ১২ বলে ১৬ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র একটিই চার।
যত ছোট দলই হোক না কেন, ৩৩ রানের লক্ষ্য খুব একটা বড় কিছু ছিল না জাপানের জন্য। ইতিহাস তখন দরজায় কড়া নাড়ছে তাদের। তবু হাল ছাড়েননি অক্ষর-ওয়াশিংটনরা। অন্যদিকে শুরুটা ভাল হয়নি সামুরাইদের জন্যও। দ্বিতীয় ওভারের আগেই রানআউট হন ল্যাচলান ইয়ামামোতো-লেক। এর পরই বল হাতে টিম ইন্ডিয়ার ত্রাতা হয়ে ওঠেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর ঝুলিতে দুটি উইকেট। যদিও তার আগেই তৃতীয় ওভারে রবি বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে ১০ রান তুলে ম্যাচ ফের জমিয়ে দিয়েছিলেন আয়োজকরা। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। এই অবস্থায় চতুর্থ ওভারের শেষ বলে জাপান অধিনায়ক কেন্ডেলকে ১২ রানে ফিরিয়ে ভারতকে আবার ম্যাচে ফেরত আনেন সুন্দর।
শেষ ৬ বলে জাপানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। অক্ষর প্যাটেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সেটা আর টপকাতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রানেই থামে তাদের লড়াই। ফলে ২ রানে জয় ভারতের। ম্যাচের পরিস্থিতি এবং জাপানের লড়াই দু’দলের ক্রিকেটারদের কাছেই ছিল আলাদা অভিজ্ঞতা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়াডে শুরু হচ্ছে শ্রেয়সদের অভিযান। তার আগে এই ম্যাচে অবশ্যই প্রস্তুতির সুযোগ পেল টিম ইন্ডিয়া। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে জাপানের মতো লিলিপুটদের এমন ঐতিহাসিক তথা রুদ্ধশ্বাস লড়াই যে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে একটু হলেও চিন্তায় রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।