কমনওয়েলথ গেমসের অষ্টম দিনে আরও দুটি পদক এল ভারতের ঝুলিতে। ভারোত্তোলনের ১১০ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন পাঞ্জাবের লভপ্রীত সিং। অন্যদিকে মহিলাদের ডিসকাস থ্রোয়ে ব্রোঞ্জ এনে দিলেন সীমা কালীরামনা। যদিও রুপো নয়, সোনাই পেতে পারতেন লভপ্রীত। মাত্র এক কেজির জন্য সোনা হাতছাড়া হল তাঁর। ওদিকে মাতৃত্ব, পড়াশোনা ও খেলাকে একসঙ্গে সামলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিতে নজর কাড়লেন সীমা।
ভারোত্তোলনে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিলেন লভপ্রীত। স্ন্যাচে ১৭৬ কেজি তুলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ২১২ কেজি তুলে মোট ৩৮৮ কেজিতে পৌঁছে কার্যত সোনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় ভারোত্তোলক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চমক দেন নিউজিল্যান্ডের ডেভিড অ্যান্ড্রু লিটি। ২২৩ কেজি তুলে মোট ৩৮৯ কেজিতে পৌঁছে মাত্র এক কেজির ব্যবধানে সোনা ছিনিয়ে নেন তিনি। ফলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল লভপ্রীতকে।
সীমা কালীরামনা অবশ্য দেশের পদক জয়ের ধারার পাশাপাশি বজায় রাখলেন পারিবারিক ঐতিহ্যও । সেনা-পরিবারে বেড়ে ওঠা সীমার কোচ তাঁর স্বামী তথা ভারতের প্রাক্তন ডিসকাস থ্রোয়ার রবীন্দ্র কালীরামনা। খেলাধুলার পাশাপাশি ভিওয়ানির বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরশিক্ষায় পিএইচডিও করছেন তিনি। সন্তানের জন্মের পর দীর্ঘ ১১ মাস প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকার পর ফের মাঠে ফিরে কমনওয়েলথের মঞ্চে ব্রোঞ্জ জিতে এক অনন্য নজির গড়ে ফেললেন সীমা। প্রথম তিনটি থ্রো ফাউল হলেও শেষ পর্যন্ত ৫৮.৬৫ মিটার ছুঁড়ে পদক নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে অ্যাথলেটিকসের বাকি ইভেন্টে ভারতের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পারুল চৌধুরী, অনিমেষ কুজুর এবং বিশাল টি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেননি। তবু এক কেজির আক্ষেপ আর সীমার অনুপ্রেরণামূলক প্রত্যাবর্তনের গল্প মিলিয়ে কমনওয়েলথ গেমসের অষ্টম দিন ভারতের জন্য রইল সাফল্য ও অপূর্ণতার মিশ্র স্মৃতি।