স্পোর্টস ডেস্ক: শেষ ৪ বলে দরকার মাত্র ৭। এমন টানটান পরিস্থিতিতেই ভারত-জাপান ম্যাচে তৈরি হল ওয়াইড-বিতর্ক। অন্তিম ওভারে জাপানের ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর অক্ষর প্যাটেলের বলে রিভার্স হিট করার চেষ্টা করলেও বল তাঁর ব্যাটে লাগেনি। ব্যাটারের শরীরের পাশ দিয়ে বল চলে যায় সেই দিক দিয়ে, যেটিকে লেগসাইড হিসেবে গণ্য করা হয়। মাঠের আম্পায়ার ক্রিস থারগেট প্রথমে বলটিকে ওয়াইড দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় সেই সিদ্ধান্ত। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়া মাত্র ২ রানে জয় তুলে নেওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যে, আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত কি শ্রেয়স আইয়ারদের পক্ষে গেল?
উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, এর ঠিক আগের বলটিতেও রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন জাপানি ব্যাটার। এটিও ব্যাটে লাগেনি, এবং আম্পায়ার ওয়াইড দেন। তখনও মাঠে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওয়াইড ঘোষণায় রীতিমতো অবাক এবং অসন্তুষ্ট হতে দেখা গিয়েছে। যদিও তাতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বদল আসেনি। সেটা এল পরের বলে। আর প্রশ্নটা এখানেই। আগের বলটিতে সিদ্ধান্ত যখন বদলায়নি, তা হলে পরের বলে বদলাল কেন?
আসলে সাদা বলের ক্রিকেটে কোনও ব্যাটার নিজের স্টান্স বদলে রিভার্স হিট বা সুইচ হিট করার চেষ্টা করলে এবং বল ব্যাটে না লাগলে, অনেক ক্ষেত্রেই সেটিকে ওয়াইড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে প্রথম সিদ্ধান্তটিকেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল অনেকের। তবে বিষয়টি এতটাও সহজ সরল নয়। ব্যাটার বলটি খেলার জন্য নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন কি না, এবং বলটি তাঁর স্বাভাবিক স্টান্স অনুযায়ী কোথা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল—এমন একাধিক বিষয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আইসিসির ম্যাচ পরিচালনার নির্দেশিকাতেও রিভার্স হিট এবং সুইচ হিটের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কোনও ব্যাটার শট খেলার আগে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলে, বলটি ওয়াইড কি না, তা শুধুমাত্র বলটি ব্যাটারের কোন পাশ দিয়ে গিয়েছে, তা দেখে ঠিক করা হয় না। বরং ব্যাটারের নতুন অবস্থান এবং বলের গতিপথও বিবেচনায় আসে। অর্থাৎ, সাধারণ লেগ সাইড দিয়ে বল চলে গেলেই সেটি ওয়াইড হয়ে যাবে, এমন কোনও কথা নেই। ঠিক এই কারণেই এ দিন পর পর দুটি বলেই ওয়াইড ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছিল মেন ইন ব্লু।
অর্থাৎ, ভারতের দিকে আঙুল তোলার আগে ক্রিকেটের নিয়মটা বোঝাও অত্যন্ত জরুরি। প্রথমে ওয়াইড, পরে সিদ্ধান্ত বদল—ঘটনাটি যে বিতর্ক তৈরি করেছে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে রিভার্স হিটের ক্ষেত্রে আইসিসির নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত একটি বলের সিদ্ধান্তই যখন ম্যাচের ফলের উপর বড় প্রভাব ফেলে, তখন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভারত-জাপান ম্যাচের সেই শেষ ওভারের মুহূর্ত তাই ম্যাচের বাইরেও ক্রিকেটীয় নিয়মের আলোচনায় উঠে এসেছে।