স্পোর্টস ডেস্ক: অন্যান্য খেলাধুলায় ম্যাচের আগে কিংবা পরে হাত মিলিয়ে সৌজন্য বিনিময়ে কোনও সমস্যা নেই। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও আরও একবার দেখা গেল এই দৃশ্যই। এশিয়াডের মঞ্চে টেবিল টেনিসের টেবিলে অবশ্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিন্দুমাত্র জায়গা ছাড়েনি ভারত। মহিলাদের দলগত বিভাগে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গিয়েছে ভারতের মহিলা দল। বঙ্গ সন্তান সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়, সিন্ড্রেলা দাস এবং শ্রীজা আকুলার দাপটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় এসেছে কার্যত একতরফাই। তবে প্রতিটি ম্যাচের পরেই একে অপরের সঙ্গে হাতও মেলালেন দুই দেশের খেলোয়াড়রা।
সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ৩-২ জয়ে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামেন সুতীর্থা। আলিনা খানকে কার্যত কোনও সুযোগই দেননি তিনি। ১১-৩, ১১-৩, ১১-৪ ব্যবধানে সরাসরি ৩টি গেমে ম্যাচ জিতে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন সুতীর্থা। ম্যাচ শেষে নজর আড়ে দুই খেলোয়াড়ের করমর্দনের দৃশ্যও। যেমনটা কিছুদিন আগে হকিতেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেটে দেখা যায় না। অর্থাৎ ভারত-পাক দ্বৈরথ ঘিরে মাঠের বাইরের নানা তর্ক-বিতর্ক থাকলেও টেবিলে তার কোনও ছাপ দেখা যায়নি।
এর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের হয়ে নামেন সিন্ড্রেলা দাস। তাঁর দাপটে ব্যবধান আরও বাড়ে। তৃতীয় ম্যাচে ভারতের হয়ে লড়াইয়ে নামেন শ্রীজা আকুলা। তিনিও প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচ জিতে নেন। ফলে তিনটি ম্যাচ জিতেই পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ভারত। এই জয়ের ফলে পরের রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারতীয় মহিলা দল। শেষ ১৬ পর্ব পেরিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ের দিকে নজর সুতীর্থা-সিন্ড্রেলা-শ্রীজাদের।
এশিয়ান গেমসে ভারতের টেবিল টেনিস অভিযান তাই এখনও পর্যন্ত বেশ জমজমাট। প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এল দাপুটে জয়। তার মধ্যেই ভারতীয় ও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সৌজন্যও আলাদা করে নজর কেড়েছে। প্রতিটি ম্যাচের শেষে করমর্দন যেন বুঝিয়ে দিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোর্টে থাকলেও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার জায়গাটি একেবারে অটুট। এ বার কোয়ার্টার ফাইনালে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য ভারতের মহিলা টেবিল টেনিস দলের।