স্পোর্টস ডেস্ক: লড়াইটা জোরদারই হল। তবু শেষ হাসি হাসতে ব্যর্থ ভারতীয় শাটলাররা। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেল পিভি সিন্ধুদের অভিযান। মঙ্গলবার জাপানের ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমনেশিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জাপানের কাছে ১-৩ ব্যবধানে হেরে গিয়েছে ভারতীয় দল। ফলে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনে ভারতের পদক-খরা দীর্ঘ হল আরও। শেষ বার ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছিল ভারত। সে বার জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল তারা। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে ১২ বছর। এ বারও সেই অপেক্ষা অপেক্ষাই রয়ে গেল।
কোয়ার্টার ফাইনালের শুরুতেই ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বের শক্তিশালী জাপানি দল। প্রথম সিঙ্গলসে কোর্টে নামেন পিভি সিন্ধু। অদম্য লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জাপানের আকানে ইয়ামাগুচির কাছে তিন গেমের লড়াইয়ে হার মানতে হয় ভারতের তারকাকে। ফলে শুরুতেই ০-১ পিছিয়ে পড়ে ভারত। সিন্ধুর লড়াই অবশ্য একেবারেই সহজ ছিল না। একাধিকবার ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে কার্যত ইয়ামাগুচির অভিজ্ঞতার কাছে পিছিয়ে পড়েন তিনি। ফলে ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়ে।
এর পর ডাবলসে তৃষা জলি এবং গায়ত্রী গোপীচাঁদ কোর্টে নেমে ম্যাচে ভারতকে ফিরিয়ে আনেন। সরাসরি দুই গেমে জিতে তাঁরা ১-১ সমতা ফেরান ম্যাচে। সেই জয়ে ভারতীয় শিবিরে ফের আশার আলো দেখা দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই হয়তো আরও জমবে। কিন্তু পরের ম্যাচগুলিতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ভারত। জাপানের উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পরের দু’টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখতেই পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-৩ ব্যবধানে হার নিশ্চিত হয় ভারতের।
ভারতের মহিলা ব্যাডমিন্টন দলের জন্য এই হার নিঃসন্দেহে হতাশার। বিশেষ করে সিন্ধুর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এবং তৃষা-গায়ত্রীর জয় ভারতকে আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত জাপানের শক্তিশালী দলকে টপকানো সম্ভব হয়নি। ফলে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনে ভারতের পদক পাওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়ল। ২০১৪-র সেই ব্রোঞ্জের পর থেকে প্রত্যাশা ছিল প্রতিবারই। কিন্তু ২০২৬-এর এশিয়াডেও সেই অপেক্ষার অবসান হল না। আগামী এশিয়ান গেমস ২০৩০ সালে। অর্থাৎ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পদকহীন থাকতে হবে ভারতীয় মহিলা ব্যাডমিন্টন দলকে।