নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুদ্ধ থামিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে বসতে আমেরিকার কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, শর্তগুলি প্রত্যাখ্যান করা হলে ইরান আরও বড় সংঘাতের জন্য প্রস্তুত।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের সবকটি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান দাবি স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রথমত, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ বা ফ্রোজেন অ্যাসেট মুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, কাতার ইতিমধ্যেই তেহরানের শর্তগুলি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। রেজাইয়ের বক্তব্য, আমেরিকার উচিত আলোচনার পথ বেছে নেওয়া। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানও তার জন্য প্রস্তুত।
এই আবহে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক তৎপরতা নিয়েও নজর বেড়েছে। ব্রিটেনের RAF Fairford ঘাঁটি থেকে একটি মার্কিন B-1B বোমারু বিমান উড়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। অতীতে এই ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত মার্কিন সামরিক অভিযানে B-1B বোমারু বিমান ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এবারের বিমানটি ঠিক কোন নির্দিষ্ট অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ফের শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার ও পাকিস্তান। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি ফের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কাতার এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।
ইরানের অবস্থান অবশ্য শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। রেজাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখছে। তাঁর বক্তব্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির কথাও উঠে এসেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তেও সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা রিয়াধের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিল, যা সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। হুথিরা পালটা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
ফলে একদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিও জারি রয়েছে। ইরানের সাত শর্তে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপই এখন সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।