প্রায় দেড় দশক ধরে বলিউডপ্রেমীদের একাংশের বিশ্বাস ছিল, 'থ্রি ইডিয়টস'-এর জনপ্রিয় চরিত্র ফুনসুখ ওয়াংড়ু (র্যাঞ্চো)-র নেপথ্যে ছিলেন লাদাখের শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। সেই বহুল প্রচলিত ধারণাতেই এবার ইতি টানলেন আমির খান। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, 'থ্রি ইডিয়টস' কোনওভাবেই সোনম ওয়াংচুককে ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। তবে একই সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ অনশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত অনশন ভাঙার আবেদনও জানিয়েছেন অভিনেতা।
লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে 'লগান'-এর বিশেষ প্রদর্শনীর পর দর্শকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির বলেন, "অনেকেরই ধারণা, 'থ্রি ইডিয়টস' সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। এটা ঠিক নয়। ছবির চিত্রনাট্য যখন লেখা হচ্ছিল, তখন আমরা কেউই সোনম ওয়াংচুক সম্পর্কে জানতাম না।" তাঁর কথায়, এই ভুল ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই ছড়িয়ে রয়েছে।
তবে সেখানেই থেমে থাকেননি আমির। তিনি বলেন, "সোনম ওয়াংচুক যে কাজ করছেন, তার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি এখন অনশনে রয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে বলে শুনছি। আমি চাই, তিনি অনশন ভেঙে সুস্থ থাকুন।" অভিনেতার মতে, কোনও চরিত্র কারও জীবন থেকে অনুপ্রাণিত না হলেও, তাঁর সামাজিক অবদানকে সম্মান জানানোতেই প্রকৃত গুরুত্ব।
এই প্রসঙ্গে সহ-অভিনেতা ওমি বৈদ্যের একটি ভাইরাল ভিডিওরও উল্লেখ করেন আমির। 'চতুর'-এর ভূমিকায় অভিনয় করা ওমি সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, 'থ্রি ইডিয়টস'-এর র্যাঞ্চো চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করেই তৈরি। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে আমির বলেন, "ওমি যা বলেছে, তা সঠিক নয়।" তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া রাজকুমার হিরানি পরিচালিত 'থ্রি ইডিয়টস' মূলত চেতন ভগতের উপন্যাস 'ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান' অবলম্বনে নির্মিত। তবে ছবির শেষ অংশে লাদাখের প্রেক্ষাপট, উদ্ভাবন এবং 'ফুনসুখ ওয়াংড়ু' চরিত্রকে ঘিরে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছিলেন বহু দর্শক। সেই থেকেই র্যাঞ্চো এবং সোনম ওয়াংচুককে একসূত্রে বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে লাদাখ-সংক্রান্ত দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আমিরের মন্তব্য যেমন পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে, তেমনই অনশন ভাঙার আবেদনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই অভিনেতার বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ তাঁর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ পুরনো সাক্ষাৎকার ও তথ্য তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর দাবির সত্যতা নিয়ে।