নিউজ ডেস্ক: নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে হেনস্থার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ বিহার পুলিশের। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে পায়ে গুলি লেগে জখম জামুই-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব। মঙ্গলবারই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে পাকড়াও করা হয়েছে আরও এক অভিযুক্তকে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, জামুইয়ের কুন্দর ব্যারাজের কাছে নন্দনের গতিবিধির সন্ধান পেয়ে তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। আত্মসমর্পণের জন্য বলা হলেও সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলিতে তার পায়ে গুলি লাগে। এর পর জখম অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জামুই সদর হাসপাতালে। সেখানেই পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
দেখুন: https://x.com/ians_india/status/2102306838771560708?s=20
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়। অভিযোগ, কোচিং ক্লাস থেকে ফেরার পথে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তাঁর এক সহপাঠীকে জামুইয়ের মারওয়া-প্রতাপপুর জাতীয় সড়কের কাছে ঘিরে ধরে এক দল যুবক। ওই দুই পড়ুয়া তখন স্কুটারে করে ঘুরতে বেরিয়েছিল। জাতীয় সড়কের ধারে ছবি তোলার জন্য তারা দাঁড়িয়েছিল। সেই সময়ই তাদের ঘিরে ধরে একদল লোক। অভিযোগ, বেশ কিছুক্ষণ ধরে দু’জনকে জেরা, হেনস্থা এবং মারধর করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় নাবালিকাকে কয়েকজন যুবক মিলে হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে এই ঘটনা চলার পর কয়েকটি গাড়ি ঘটনাস্থলে এসে থামলে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই দুই পড়ুয়াকে।
এ দিকে ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। ভিডিয়োয় গেরুয়া রঙের ছাপা গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে থাকা নন্দন যাদবকে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সে। ফলে, অভিযুক্তদের ধরতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করে জামুই পুলিশ। জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৭ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় নন্দনের পাশাপাশি হরেরাম যাদব নামে আরও এক অভিযুক্ত জখম হয়েছে। তার পায়েও চোট লাগে এবং তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমে উক্ত নাবালিকার পরিচয় প্রকাশের অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই পড়ুয়ার পরিচয় প্রকাশ করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১২০টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ভাইরাল ভিডিয়োর সূত্র এবং তাতে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের পরিচয়ও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো চিত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উক্ত নাবালিকা ও তার সহপাঠীকে ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়—সবই তদন্তের আওতায় রয়েছে।