ঝাড়খণ্ড, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: জয় হল ছাত্রদের অদম্য লড়াইয়ের। ঝাড়খণ্ডে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা-সহ ২০১৪ সাল থেকে আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল-এর মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষা অবশেষে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেন সরকার। সোমবার রাজ্য সচিবালয়ে দীর্ঘ মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের সিদ্ধান্তের পর রাঁচিতে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহতো অনশন প্রত্যাহার করেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিংহ এবং ইরফান আনসারি।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে। রাঁচির প্রজেক্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা বাতিল করে সমস্ত পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে শুধু দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, গোটা পরীক্ষা বাতিল করা নয়। এই দাবিতেই সরব তাঁরা। এক পরীক্ষার্থীর কথায়, ‘‘সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। মা-বাবাকে বলব, একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা আবার জিতব।’’
অন্য দিকে, সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মাহতো। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় যে তদন্ত চলছে, তাতে সহযোগিতা করবেন তাঁরা। তবে শুধু তদন্ত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য কোনও অনিয়ম না ঘটে, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
মাহতো জানিয়েছেন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি দূর করার লড়াই চলবে। একই সঙ্গে সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগেও পড়ুয়ারা সহযোগিতা করবেন। ফলে এক দিকে অনিয়ম রুখতে পরীক্ষা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্বস্তি। অন্যদিকে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা। দুয়ের মাঝে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে টানাপড়েন জারি রইল আপাতত।