কালিম্পং, নিউজ ডেস্ক: মঞ্চে তখন একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। চারিদিকে উত্তেজনা, দর্শকদের নজর আটকে ছিল প্রতিযোগীদের দিকে। এতজনের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে যাবেন, তা নিয়ে ছিল কৌতূহল। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তর মিলল। উত্তরবঙ্গের এক ক্রীড়াবিদ আবারো নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন। তবে, তাঁর এই সাফল্য একেবারে নতুন নয়।
কালিম্পংয়ে অনুষ্ঠিত হল পঞ্চমতম নেপাল ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ। কালিম্পং হিল অন সেরেমনি হলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৩১০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সকলের নজর কাড়েন শিলিগুড়ির গোবিন্দ সরকার। সেই কঠিন লড়াইয়ে ৭০ কেজি বিভাগে সোনা জিতে সকলের মন জয় করে নেন তিনি। শুধুমাত্র গোল্ড মেডেলই নয়, তাঁর দুর্দান্ত পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিযোগিতায় বেস্ট ফাইটারের সম্মানও পান তিনি। ফলে, কালিম্পংয়ের এই প্রতিযোগিতা গোবিন্দের ক্যারিয়ারে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রইল।
শিলিগুড়ির গোবিন্দ সরকারের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দেশের বাইরের ক্যারাটে ও বক্সিং এর বিভিন্ন মঞ্চে নিজের দক্ষতা তুলে ধরেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও পরিচিত গোবিন্দ। শিলিগুড়ির এই ক্রীড়াবিদের ধারাবাহিক সাফল্য স্থানীয় ক্রীড়ামহলে নতুন করে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের জন্য গর্বের বিষয় বলে মনে করেছেন তাঁর অনুরাগীরা।
গোবিন্দের কথায়, আত্মরক্ষা শেখা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার জন্য নয়। দৈনন্দিন জীবনে বিপদের সময়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রত্যেক মানুষকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে, আগামী দিনে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করায় তাঁর লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের এই গর্ব।