নিউজ ডেস্ক: কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়ল। রাস্তার নামকরণ ও নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত ১০ সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের জন্য কলকাতা পুরনিগমে স্থায়ী অফিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলায় কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে একটি ঘর সংস্কার করে তাঁর অফিস হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। অক্টোবর মাস থেকে সেখানে নিয়মিত বসার কথা রয়েছে কমিটির চেয়ারম্যানের।
সরকার বদলের পর কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নাম পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব সামনে এসেছে। বিশেষ করে লেনিন সরণি এবং কার্ল মার্কস সরণির মতো নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন রাস্তার নাম ভারতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নামে করার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। তবে কোন কোন রাস্তার নাম পরিবর্তন হবে এবং নতুন নাম কী হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ঘরটি কার্তিক মহারাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেটি আগে প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারের ব্যবহারে ছিল। ঘরটি নতুন করে সংস্কার করে সেখানে অফিসের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কমিটির কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে কলকাতা পুরসভার রাস্তার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যানদের জন্য আলাদা কোনও স্থায়ী অফিস ছিল না। প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠকের জন্য চেয়ারম্যান পুরসভায় আসতেন। এবারই প্রথম কমিটির চেয়ারম্যানের জন্য পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে স্থায়ী অফিসের ব্যবস্থা করা হল।
দায়িত্ব পাওয়ার পর কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, রাস্তার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নাম সামনে এসেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক নামের প্রস্তাবও তাঁর কাছে এসেছে। সেই প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মতবিরোধও তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন নাম দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও বিদ্যমান রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে তিনি সমালোচনা করবেন। বিশেষ করে লেনিনের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার ঐতিহ্যের মধ্যে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম পাশাপাশি থাকতে পারে। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কার্ল মার্কস এবং চৈতন্যদেব সকলের নামই শহরের ইতিহাস ও বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে থাকা সম্ভব।
ফলে রাস্তার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কমিটির সুপারিশ, পুরসভার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই কোন রাস্তার নাম বদলাবে, তা স্পষ্ট হবে। আপাতত কার্তিক মহারাজের জন্য স্থায়ী অফিস তৈরি হওয়ায় নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হল।