স্নিগ্ধা চৌধুরী: ইতিহাসের পাতায় স্বাধীনতার লড়াই মানেই যেন কয়েকটি চেনা মুখ, কয়েকটি উচ্চারিত নাম, কয়েকটি বহুলচর্চিত অধ্যায়। কিন্তু স্বাধীনতার সেই মহাকাব্যিক অভিযাত্রার কত পৃষ্ঠা যে লেখা হয়েছিল নিভৃতে, কত নারীর রক্ত, অশ্রু আর অদম্য সাহসে, তার হিসেব ইতিহাস সবসময় রাখেনি। তাঁদের কেউ বন্দুক হাতে যুদ্ধ করেননি, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি হননি; অথচ ঘরের চার দেওয়াল ভেঙে, সমাজের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে, ব্রিটিশের কারাগারের অন্ধকারে পা রেখেও তাঁরা স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। লাবণ্যপ্রভা দত্ত ছিলেন সেই বিস্মৃত অথচ দীপ্তিমান নারীযোদ্ধাদের একজন।
তাঁর জীবনের শুরুটাই যেন ছিল এক অদৃশ্য বিদ্রোহের পূর্বাভাস। যে সমাজে নারীর পা ঘরের দোরগোড়া পেরোনোই ছিল অপরাধসম, সেই সমাজের এক ছোট্ট মেয়ে সাত বছর বয়সেই প্রশ্ন তুলেছিল অন্ধ প্রথার বিরুদ্ধে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই একদিন তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নির্ভীক সংগঠক, কারাবন্দি সংগ্রামী, কংগ্রেস নেত্রী এবং অসংখ্য নারীকে রাজপথে নামিয়ে আনা এক দুর্জয় প্রেরণা। তাঁর হাতে অস্ত্র ছিল না, কিন্তু তাঁর সংকল্প ছিল অস্ত্রের চেয়েও ধারালো। তাঁর কণ্ঠে ছিল না রাজদণ্ডের ক্ষমতা, কিন্তু সেই কণ্ঠেই জেগে উঠেছিল প্রতিবাদের সাহস।
১৮৮৮ সালে বহরমপুরে পিতার মামাবাড়িতে জন্ম লাবণ্যপ্রভা দত্তের। পিতা হেমচন্দ্র রায়, মাতা কুমুদিনী দেবী। শৈশব কেটেছিল এক কঠোর পর্দানশীন বৈষ্ণব জমিদার পরিবারে। সেখানে নারীর জীবন ছিল নিয়মের বেড়াজালে বন্দি। ধর্মীয় আচার ও সামাজিক অনুশাসনের নামে নারীদের চলাফেরার উপর ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
সেই বাড়িরই এক প্রথা ছিল আরও অমানবিক। গ্রহণ লাগলেই বাড়ির বধূ ও কন্যাদের পাল্কিতে তুলে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হত এবং পাল্কিসুদ্ধ তাঁদের জলে চুবিয়ে আনা হত। সাত বছরের লাবণ্যপ্রভা এক শীতের গ্রহণের রাতে সেই পাল্কিতে ওঠেননি। গঙ্গার পথে না গিয়ে তিনি লুকিয়ে রইলেন বাড়িতেই।
শিশুমনের সেই সামান্য অবাধ্যতার মধ্যেই যেন ভবিষ্যতের লাবণ্যপ্রভা দত্তের জন্ম হয়েছিল। সেদিন তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বড় হয়ে এই নিষ্ঠুর প্রথা তিনি ভাঙবেন। আশ্চর্যের বিষয়, বহু বছর পর সেই শিশুর সংকল্পই বাস্তব রূপ পায়। ১৯৩০ সালে দক্ষিণ কলকাতা কংগ্রেসের সম্পাদিকার দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বহরমপুরে ফিরে যান। যে জমিদারবাড়ির নারীরা একদিন পর্দার আড়ালে বন্দি ছিলেন, তাঁদের বাইরে এনে সভায় বসান। শুধু সভাই নয়, চারটি জায়গায় গড়ে তোলেন চারটি মহিলা সমিতি।
সময় বদলেছিল। আর সেই বদলের অন্যতম কারিগর ছিলেন সেই ছোট্ট মেয়েটিই।
মাত্র ন’বছর বয়সে লাবণ্যপ্রভার বিবাহ হয় খুলনা জেলার শ্রীপুর গ্রামের যতীন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে। স্বামী প্রথমে কলকাতায় আইনজীবী ছিলেন, পরে সাতক্ষীরায় ওকালতি শুরু করেন। সংসার তাঁর জীবনের একটি অধ্যায় হলেও, তার সীমানা কখনও তাঁর মনকে আটকে রাখতে পারেনি।
তাঁর বড় ভাই হরেন্দ্রনাথ রায় বিপ্লবী বারীন ঘোষের সঙ্গে রাজনৈতিক কাজে যুক্ত ছিলেন। দাদার কাছ থেকেই লাবণ্যপ্রভার জীবনে প্রথম প্রবেশ করে দেশপ্রেমের সেই গোপন আগুন। বিপ্লবীদের রিভলভার, নিষিদ্ধ পুস্তক, সবই তিনি লুকিয়ে রাখতেন। অন্দরমহলের এক তরুণী তখন অজান্তেই হয়ে উঠছিলেন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের নীরব সহযোগী।
আঠারো বছর বয়সে দাদাকে হারান তিনি। মৃত্যুর আগে দাদা ছোট বোনের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন, দেশসেবায় যেন নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এবং তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। সেই আশীর্বাদ ছিল যেন এক অমোঘ নির্দেশ। জীবনের পরবর্তী প্রতিটি বাঁকে লাবণ্যপ্রভা সেই কথার প্রতিধ্বনি শুনেছেন।
১৯০৬-এর স্বদেশী যুগে তাঁর দেশপ্রেম আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহার করতেন। স্বদেশি তরুণদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। এমনকি তাঁর প্রভাবেই স্বামীও স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হন। ব্যক্তিগত সংসারের ভিতর থেকেও তিনি ধীরে ধীরে বৃহত্তর জাতীয় সংগ্রামের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছিলেন।
কিন্তু তাঁর জীবনে ব্যক্তিগত বিপর্যয়ও কম আসেনি। মাত্র তেইশ বছর বয়সে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে বিধ্বস্ত করে দেয়। শোকের ভারে তিনি চলে যান পুরীতে। রামদাস-বাবাজীর কাছে দীক্ষা নেন। দীর্ঘদিন পুরীতে থাকার পর ছোট মেয়ে ও পিতার মৃত্যুর অভিঘাতে তিনি পুরী ছেড়ে প্রথমে নবদ্বীপ, পরে কলকাতায় ফিরে আসেন।
জীবন যেন একের পর এক তাঁর কাছ থেকে আপনজন কেড়ে নিচ্ছিল। কিন্তু প্রতিটি আঘাত তাঁকে আরও কঠিন করে তুলছিল। ব্যক্তিগত বেদনা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছিল দেশমাতৃকার জন্য আত্মনিবেদনের শক্তিতে।
১৯২৯ সালে লাহোর জেলে অনশনরত অবস্থায় যতীন দাসের মৃত্যু ঘটে। তাঁর শ্মশানে দাঁড়িয়ে লাবণ্যপ্রভা ও তাঁর কন্যা শোভারাণী যে শপথ নিয়েছিলেন, তা তাঁদের জীবনকে সম্পূর্ণ নতুন পথে নিয়ে যায়। তাঁরা প্রতিজ্ঞা করেন, দেশসেবায় নিজেদের সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করবেন।
তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাননি মা-মেয়ে।
১৯৩০ সালে তাঁরা গড়ে তোলেন ‘আনন্দমঠ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। উদ্দেশ্য, দেশসেবা, জনসেবা এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে কর্মী তৈরি। সেখান থেকে বহু তরুণ-তরুণী আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিতে বেরিয়ে পড়তেন। একই সময়ে গড়ে ওঠে ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’। লাবণ্যপ্রভা ও শোভারাণীও সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
বড়বাজারের রাস্তায় পিকেটিং করা, মহিলা কর্মী সংগ্রহ করা, জনতাকে আন্দোলনে যুক্ত করা, সবেতেই তাঁদের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। যে নারী একদিন জমিদারবাড়ির অন্তঃপুরে আবদ্ধ ছিলেন, তিনিই এবার কলকাতার রাজপথে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করছেন। লবণ আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি চলে যান মহিষবাথানে।
ফিরে এসে ‘যতীন স্মৃতিমন্দির’-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখান থেকেও বহু কর্মীকে পিকেটিং ও আন্দোলনে পাঠানো হত। তাঁর কাজের পরিধি ক্রমেই বাড়ছিল। বিপ্লবী নেতা হরিকুমার চক্রবর্তীর আহ্বানে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতা কংগ্রেসের কাজে যোগ দেন।
তখন দক্ষিণ কলকাতা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু এবং সম্পাদক চণ্ডীচরণ ব্যানার্জী। আইন অমান্য আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে লাবণ্যপ্রভা গ্রেপ্তার হন। তিন মাসের কারাদণ্ড হয়।
কিন্তু কারাগার তাঁর কাছে পরাজয়ের প্রতীক ছিল না। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আরও বড় দায়িত্বের সামনে দাঁড়ালেন। চণ্ডীচরণ ব্যানার্জী আন্দোলন পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে লাবণ্যপ্রভা দক্ষিণ কলকাতা কংগ্রেসের সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি চব্বিশ পরগনা কংগ্রেস কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্টও হন।
তাঁর নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা এসেছিল রাজপথে।
চব্বিশ পরগনার নীলা গ্রামে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গুলি চালানোর আগে সতর্ক করছিল। সেই মুহূর্তে আশু দলুই নামে এক তরুণ সামনে এগিয়ে এসে বুক পেতে দিয়ে বলেছিলেন, “আমি এই বুক পেতে দিচ্ছি, গুলি কর।”
পরের মুহূর্তেই পুলিশের গুলিতে তাঁর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এক মায়ের একমাত্র সন্তান স্বাধীনতার বেদিতে নিজের জীবন দিয়ে গেলেন। তাঁর রক্তের দাগ হয়তো ইতিহাসের বড় বড় পৃষ্ঠায় নেই, কিন্তু স্বাধীনতার পথের প্রতিটি ইঞ্চিতে এমন অগণিত বিস্মৃত আত্মত্যাগ মিশে আছে।
লাবণ্যপ্রভা সেই রক্তের ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখেছিলেন। তাই তাঁর সংগ্রাম ছিল কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ছিল মানুষের আত্মত্যাগকে মর্যাদা দেওয়ার এক অবিরাম অঙ্গীকার।
১৯৩১ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবসে দক্ষিণ কলকাতায় তিনি শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ পুলিশের লাঠি নেমে আসে তাঁর উপর। ভেঙে যায় তাঁর ডান হাত। কিন্তু ভাঙা হাত নিয়ে তিনি থামেননি। পরদিনই ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ডায়মন্ডহারবারের বাণীমন্দিরে পৌঁছে যান।
সেখান থেকে ১৪৪ ধারা ভাঙার উদ্দেশ্যে তাঁরা আদালতের দিকে এগিয়ে যান। প্রেমলতা বসু যখন জনতার সামনে পুলিশের লাঠির আঘাতে ভেঙে যাওয়া লাবণ্যপ্রভার হাত দেখিয়ে বক্তৃতা করেন, তখন জনতার ভিতরেও যেন আগুন জ্বলে ওঠে। একের পর এক মানুষ আইন অমান্য আন্দোলনে এগিয়ে আসে।
ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ছাড়েনি। রাজদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৩২ সালে আবারও গ্রেপ্তার। হরিশ পার্কে হিজলীর রাজবন্দিদের উপর গুলি চালানোর প্রতিবাদে বক্তৃতা করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের মামলা হয়। এবার সাজা, আঠারো মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।
কিন্তু জেলখানার দেওয়ালও তাঁর প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে আটকে রাখতে পারেনি। প্রেসিডেন্সি জেলের মহিলা ওয়ার্ডে বিধবাদের নিজেদের রান্না করে খাবার অধিকার ছিল না। সেই অমানবিক নিয়মের বিরুদ্ধে লাবণ্যপ্রভা টানা ১৪ দিন অনশন করেন। অবশেষে জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
স্বাধীনতার লড়াই তাঁর কাছে শুধু ব্রিটিশকে তাড়ানোর লড়াই ছিল না; ছিল মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াইও।
১৯৩৯ সালে তিনি বি.পি.সি.সি.-র মহিলা সাব-কমিটির সম্পাদক হন। ১৯৪০ সালে সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবন্দি হলে লাবণ্যপ্রভাকে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৪১ সালে তিনি নির্বাচিত সভানেত্রী হন। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫, এই দীর্ঘ সময় তিনি এক ভয়ংকর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংগঠনের নেতৃত্ব দেন।
চারদিকে ব্রিটিশ সরকারের দমননীতি, গ্রেপ্তার, মামলা, নির্যাতন। অথচ লাবণ্যপ্রভা ছিলেন অবিচল। তাঁর কাছে নেতৃত্ব মানে ছিল সামনে থেকে বিপদকে গ্রহণ করা। তাঁর কাছে পদ মানে ছিল দায়িত্ব, সম্মান নয়।
সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ জেল থেকে ফিরে এলে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। কারণ তাঁর কাছে ব্যক্তি নয়, আদর্শই ছিল বড়।
লাবণ্যপ্রভা দত্তের জীবন তাই এক নারীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়; এটি এক যুগের বিবেকের গল্প। যে নারী জন্মেছিলেন পর্দার আড়ালে, তিনিই পর্দা ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন রাজপথে। যে মেয়ে সাত বছর বয়সে এক অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে নীরব বিদ্রোহ করেছিল, সেই মেয়েই পরিণত বয়সে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চোখে চোখ রেখে কারাগারে গিয়েছিল।
তাঁর হাত ভেঙেছে, কিন্তু সংকল্প ভাঙেনি। তাঁর শরীর কারাগারে বন্দি হয়েছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ বন্দি হয়নি। ব্যক্তিগত শোক তাঁকে আঘাত করেছে, কিন্তু দেশসেবার পথ থেকে সরাতে পারেনি।
স্বাধীনতার ইতিহাসের বৃহৎ মশালগুলো যাঁদের হাতে আমরা দেখি, তাঁদের পাশে এমন অগণিত নারী ছিলেন, যাঁরা নিজের জীবনকে প্রদীপের মতো পুড়িয়ে সেই আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। লাবণ্যপ্রভা দত্ত তাঁদেরই একজন, একজন অক্লান্ত, আদর্শনিষ্ঠ, নির্ভীক স্বাধীনতা সংগ্রামী।
আজ তাঁর নাম হয়তো পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটি পাতায় নেই। তাঁর জন্য হয়তো শহরের ব্যস্ত মোড়ে প্রতিদিন মালা পড়ে না। কিন্তু যে স্বাধীনতার বাতাসে আমরা নিঃশ্বাস নিই, তার প্রতিটি কণায় মিশে আছে এমন অগণিত মানুষের আত্মত্যাগ।
লাবণ্যপ্রভা দত্ত তাঁদেরই প্রতিনিধি।
তিনি ইতিহাসের প্রান্তিক কোনো চরিত্র নন, তিনি সেই ইতিহাসের এক নীরব আগ্নেয়গিরি, যার বিস্ফোরণের শব্দ হয়তো সময়ের কোলাহলে চাপা পড়েছে, কিন্তু যার উত্তাপ আজও স্বাধীনতার স্মৃতিকে উষ্ণ রাখে।
দেশ স্বাধীন হয়েছে। পতাকা উঠেছে। সাম্রাজ্যের শিকল ভেঙেছে। কিন্তু সেই শিকল ভাঙার শব্দের মধ্যে লাবণ্যপ্রভা দত্তের মতো নারীদের অদম্য পদধ্বনি আজও যেন শোনা যায়, অন্ধকার অন্দরমহল থেকে মুক্তির উন্মুক্ত আকাশের দিকে।