গত মঙ্গলবার(১৪ই জুলাই) বাগডোগরার হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে চা পাতা তোলার কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। আচমকাই তাঁদের চোখে পড়ে একটি মাথা বিহীন রক্তাক্ত দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাগডোগরা থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং শুরু হয় তদন্ত।
বাগডোগরায় চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া মুণ্ডুহীন দেহের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে কার্যত হতবাক পুলিশ কর্তারা। তদন্তের গভীরে যেতেই বেরিয়ে এল পরকীয়া ও চরম নৃশংসতার এক হাড়হিম করা কাহিনী। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ১০ বছরের বিবাহিত সম্পর্ককে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের প্রেমিককে সাথে নিয়ে স্বামীকে খুন করেন স্ত্রী। এই রোমহর্ষক কাণ্ডে মৃতের স্ত্রী ও তার প্রেমিকসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুনের নেপথ্যে উঠে আসে ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনী। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম ইমাম। তিনি পেশায় ছিলেন তান্ত্রিক। বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা ইমামের শ্বশুরবাড়ি ছিল শিলিগুড়িতে।পেশাগত সূত্রেই বাগডোগরার বাসিন্দা অপর তান্ত্রিক সুদীপ পালের সাথে ইমামের সখ্যতা গড়ে ওঠে। তবে এই বন্ধুত্বের আড়ালে সুদীপের সাথে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন ইমামের স্ত্রী মমিনা বেগম।স্বামীকে রাস্তা থেকে সরাতে মমিনা ও সুদীপ একযোগে খুনের পরিকল্পনা করে।
গত সোমবার বিকেলে সুদীপ ফোন করে ইমামকে বিহার থেকে বাগডোগরায় ডেকে পাঠায়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল সুদীপ ও তার সহযোগীরা। সকলে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ইমামকে হত্যা করে। যাতে কেউ মৃতদেহ শনাক্ত করতে না পারে তার জন্য ধড় থেকে মাথা কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়। মূল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার মুন্সিবাড়ি এলাকা থেকে পরবর্তীতে পুলিশ বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে।
এই নারকীয় ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন মমিনা বেগম (মৃতের স্ত্রী) সুদীপ পাল (মমিনা বেগমের প্রেমিক) নিতাই পাল ও বাপি পাল (সুদীপের দুই ভাগ্নে, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা) কৌশিক নাথ (ভাগ্নেদের বন্ধু, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা)।বৃহস্পতিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।




