নিউজ ডেস্ক: স্কুলে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চলেছে মেক্সিকো সরকার। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে এই নিয়ম কার্যকর হবে। পড়ুয়াদের প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি, মনোযোগের অভাব, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম। তবে সরকারের সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন একাংশ অভিভাবক। তাঁদের আশঙ্কা, দেশে ক্রমবর্ধমান হিংসার পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের সময় ক্লাসে মোবাইল বা অন্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। তবে শিক্ষকের নির্দেশে পড়াশোনার প্রয়োজনে, জরুরি পরিস্থিতিতে এবং শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ চাহিদার ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। স্কুলে যাতায়াতের সময় অবশ্য পড়ুয়ারা মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারবে।
মেক্সিকোর শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রেডিমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৭ বছর পর্যন্ত বয়সি প্রতি ১০ জনের মধ্যে এক জন সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে। সিনালোয়া প্রদেশের অভিভাবক সংগঠনের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো অর্তিজের কথায়, ‘সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের ডিজিটাল মাধ্যম তুলে নিতে অভিভাবকেরা সহজে রাজি হবেন না।’ তাঁর অভিযোগ, অভিভাবকদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি সিনালোয়ার এসকুইনাপায় একটি বাসে বন্দুক হামলার ঘটনা অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাসটিতে এক ডজনেরও বেশি স্কুলপড়ুয়া ছিল। হামলায় বাসচালক আহত হন। ঘটনার পর এক মা স্কুলে থাকা মেয়েকে ফোন করে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হন। তাঁর কথায়, ‘সন্তানের নিরাপত্তাই সবার আগে।’
তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থনও করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লুসিয়া ম্যাগিস-ওয়েনবার্গের মতে, প্রযুক্তির যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনই বিপদও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ডিজিটাল মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনলাইন হয়রানি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১১৪টি দেশে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। ফ্রান্স-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ এবং ব্রাজিল, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও কোস্টারিকাতেও এমন নিয়ম রয়েছে।




