নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আবহে ফের পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা। ইরানের হরমুজ প্রণালী লাগোয়া কাশেম দ্বীপ এবং বন্দর-এ-লেঙ্গেহ শহরে পর পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল। সোমবার রাতে এই বিস্ফোরণের পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, কাশেম দ্বীপে পর পর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। অন্য দিকে, বন্দর-এ-লেঙ্গেহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিস্ফোরণের আগে আকাশে দু’টি বিমান চক্কর কাটতে দেখেছেন তাঁরা।
প্রথম দিকে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইরান সরকার। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি। তবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণের পিছনে মার্কিন সামরিক অভিযানের যোগ থাকতে পারে। পরে রয়টার্সের প্রতিবেদনেও আমেরিকার কয়েক জন সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, কাশেম দ্বীপে সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাঁদের দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবিলা এবং অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ সুরক্ষিত রাখতেই এই অভিযান। যদিও পেন্টাগনের তরফে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার তিনটি চালকবিহীন বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, দু’টি এমকিউএম-১৭০ নজরদারি ড্রোনকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির সাহায্যে কাশেম দ্বীপের দক্ষিণে নামানো হয়েছে। অন্য একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকে প্রণালীর পূর্ব দিকে ধ্বংস করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ড্রোনগুলি ধ্বংস করার ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি তেহরানের। যদিও ইরানের এই দাবির সবিস্তার সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।
ঘটনাচক্রে, আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহেও আলোচনার রাস্তা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেছিলেন, ‘ইরান দ্রুত একটা বোঝাপড়ায় আসতে চাইছে। এটা হতেই পারে।’ তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসন আশাবাদী। কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।
তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত তেহরান। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব আরও শক্তিশালী হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে আগে থেকেই জল্পনা চলছিল। সেই আবহে কাশেম দ্বীপে বিস্ফোরণ এবং মার্কিন হামলার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ এবং বাণিজ্যে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।




